দলগুলোর কাছে নাম চেয়েছে সার্চ কমিটি

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১০ এএম

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নাম চেয়েছে সার্চ কমিটি। একই সঙ্গে পেশাজীবী সংগঠন ও কেউ ব্যক্তিগতভাবে চাইলে নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সর্বোচ্চ পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করা যাবে। গতকাল রবিবার এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করার লক্ষ্যে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি আগ্রহী ব্যক্তিদের নাম আহ্বান করছে। রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে সুপারিশ করার জন্য অনধিক পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করতে পারবে। ব্যক্তিগত পর্যায়েও আগ্রহী ব্যক্তিরা তাদের নিজ নিজ নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।

পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্তসহ প্রস্তাবিত নাম সরাসরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বা ই-মেইলে (মভঢ়থংবপ@পধনরহবঃ.মড়া.নফ) পাঠানোর জন্য বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন গঠনে করা সার্চ কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছে।

প্রথম বৈঠকের আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশিদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন অনুযায়ী সৎ, নির্ভীক ও দক্ষ লোক নিয়োগ করা হবে। আইনে তাই বলা হয়েছে। আমি সার্চ কমিটির মেম্বার নই। আমরা কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেব।’

কবে নাগাদ নির্বাচন কমিশন গঠন হবে জানতে চাইলে আবদুর রশিদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী এই কমিটি ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দেবে। এরপর রাষ্ট্রপতি কবে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন, সেটা তো আমরা বলতে পারব না।’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। পরদিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই পদত্যাগ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ৫ সেপ্টেম্বর কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনও পদত্যাগ করে। এই কমিশন শপথ নিয়েছিল ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৯ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে। আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে এ কমিটির প্রধান করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মোবাশ্বের মোমেন, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক মো. আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জীনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম।

আইন অনুযায়ী, সার্চ কমিটি একবার গঠিত হলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি সদস্যপদের জন্য দুজন করে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করতে ১৫ কার্যদিবসের বেশি সময় লাগে না। এরপর রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনারকে বাছাই করে ইসি গঠন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত