অনুষ্ঠিত হলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসম্মেলন

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৩০ এএম

দাওয়াত ও তাবলিগ, কওমি মাদ্রাসা এবং দ্বীনের হেফাজতের লক্ষ্যে গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের ওলামা-মাশায়েখ কর্র্তৃক ইসলামি মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং আশপাশের প্রায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে শুধুই আলেম-ওলামাদের উপস্থিতি ছিল। সারা দেশ থেকে আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আসেন এই মহাসম্মেলনে। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে এই মহাসম্মেলন চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

ভারতের মাওলানা সা’দকে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করলে ঠেকানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাবলিগের সাধারণ সাথী ও কওমিপন্থি আলেম-ওলামারা। জামেয়া হোসাইনিয়া মিরপুর মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া বলেন, মাওলানা সা’দ এমন কিছু বক্তব্য দিচ্ছেন যা একজন ইসলাম প্রচারকের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তিনি নবীদের সমালোচনা করেছেন, সাহাবি ও দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। যে ব্যক্তি এমন কথা বলেন তিনি তাবলিগের আমির হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তাকে আনার কোনো ষড়যন্ত্র যদি চলে তাহলে তিনি যেদিক দিয়েই আসবেন সেদিক দিয়ে লংমার্চ চলবে।

মিরপুর থেকে আসা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি ইউনুস আদনান বলেন, মাওলানা সা’দের অনুসারীরা তাকে দেশে এনে মুসলমানদের মধ্যে একটি বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের ইসলামি দাওয়াতের কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদসহ টঙ্গী ইজতেমায় বিভক্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে অথচ দেশের অধিকাংশ আলেম-ওলামাসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান তার বিপক্ষে। এমতাবস্থায় যদি তাকে দেশে আনার পাঁয়তারা করা হয় দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই আমাদের আজকের এই সম্মেলন।

এই মহাসম্মেলনে ওলামা-মাশায়েখের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। ৯ দফা ঘোষণায় বলা হয় এক. তাবলিগ নিয়ে বিচ্ছিন্ন মহলের সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। দুই. সাধারণ শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মশিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। তিন. আলেমদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের যাবতীয় মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। চার. শাপলা চত্বরের গণহত্যায় জড়িতদের বিচার করতে হবে। পাঁচ. ২০১৮ সালে টঙ্গী ইজতেমার ময়দানে সা’দপন্থিদের নৃশংস আক্রমণের বিচার করতে হবে। ছয়. কোনো অবস্থাতেই মাওলানা সা’দকে এদেশে আসতে দেওয়া হবে না। সাত. আলেমপন্থিদের বিশ্বইজতেমাই সরকারঘোষিত দুই পর্বে করতে দিতে হবে। আট. কাকরাইল মসজিদ আজ থেকে কেবলমাত্র শুরায়ি নেজামের অধীনে পরিচালিত হবে। নয়. অভিশপ্ত কাদিয়ানিদের অবিলম্বে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

সম্মেলনে হেফাজত আমির মাওলানা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা খলিল আহমাদ কাসেমী, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, মাওলানা নুরুল ইসলাম আদিব সাহেব হুজুর, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা রশিদুর রহমান, মাওলানা শায়খ জিয়াউদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, ফরিদাবাদের মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবু তাহের নদভী, মাওলানা আরশাদ রহমানি, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মুস্তাক আহমদ, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা মুফতি মনসুরুল হক, মাওলানা মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত