গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ ও তিন সাঁওতালকে হত্যার আট বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ঘটনার আট বছরেও বিচার না পেয়ে হতাশ সাঁওতালরা। প্রশাসন বলছে, এ ঘটনায় আদালতের আদেশে তদন্ত চলছে।
২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতালকে হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর, নির্যাতনের বিচার-ক্ষতিপূরণ ও বাপ-দাদার জমিতে পূর্ণ অধিকারসহ সাত দফা দাবিতে আজ বুধবার সমাবেশ, শোক মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে সাঁওতালরা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৯ পুলিশ সদস্য তীরবিদ্ধ ও চার সাঁওতাল গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে তিন সাঁওতাল শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ মারা যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বসতি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এসব ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে স্বপন মুরমু বাদী হয়ে ওই বছরের ১৬ নভেম্বর ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা করেন। ২৬ নভেম্বর থোমাস হেমব্রম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে আরেকটি মামলা করেন।
পরে হাইকোর্ট মামলা দুটি এক করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাইবান্ধা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হাই সাঁওতাল হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাকিল আহমেদ, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি শ্রী শুভ্রত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হান্নান, ডিবি পুলিশের এসআইসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১ আসামির নাম বাদ দিয়ে ৯০ জনের নামে ওই অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়।
একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী থোমাস হেমব্রম অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দেন। আদালত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর অধিকতর তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সিআইডি ২০২০ সালের ২ নভেম্বর আদালতে একই ধরনের অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি বাদী থোমাস হেমব্রম ফের নারাজি দেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নাজমুল হাসান নারাজি পিটিশন মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন গাইবান্ধা পুলিশ সুপারকে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, আদালত গত ১২ সেপ্টেম্বর নারাজি পিটিশন গ্রহণ করেছে। তদন্তের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর আগে পিবিআই ও সিআইডি মূল আসামিসহ ১১ জনকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ফলে সাঁওতালরা হতাশ হয়ে পড়েছিল।
সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘সঠিক বিচারের দাবিতে আমরা আজও ঘুরছি। প্রায় আট বছর পার হয়ে গেলেও বিচার হয়নি।’
