বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদ কান্ধলভির উপস্থিতি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তার অনুসারীরা। তাদের অভিযোগ, তাবলিগের বিচ্ছিন্ন একটি অংশ বিভ্রান্তি তৈরি করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দাওয়াত ও তাবলিগের উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ সাথী’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে কাকরাইল মসজিদের খতিব মুফতি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘দাওয়াতে তাবলিগ বিশ^ব্যাপী একটি অরাজনৈতিক, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ সংগঠন। এ দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে লাখো মানুষ ইসলামের পথে এসেছেন এবং হেদায়েত লাভ করেছেন। বিশ্বব্যাপী এই দাওয়াতি সংগঠনের বাৎসরিক সম্মেলন বা বিশ্ব ইজতেমা প্রায় ৫৭ বছর ধরে টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আসন্ন বিশ^ ইজতেমাকে কেন্দ্র করে একটি চিহ্নিত মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
তথাকথিত জুবায়েরপন্থি তাবলিগের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ দেশের কিছু উলামায়ে কেরামকে বিভ্রান্ত করে ও মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে।’
গত মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুবায়েরপন্থিদের সমাবেশ থেকে বিভিন্ন অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন মুফতি আজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা ৩ নভেম্বর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের আলেমদের ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছি। তবে জুবায়েরপন্থিদের উসকানিতে কিছু অদূরদর্শী আলেম আপসমূলক সমাধানে না এসে তাবলিগ ও বিশ্ব ইজতেমার ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন এবং পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।’
অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করে তা নিয়ে সাতটি শর্তের ভিত্তিতে উন্মুক্ত বিতর্কের প্রস্তাব দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। এর মধ্যে রয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দের মাওলানা আরশাদ মাদানী ও পাকিস্তানের শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানীসহ ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ আলেমরা বিচারক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন; সরকারের উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা থাকবেন; গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন এবং এই বিতর্ক সরাসরি সম্প্রচার করা হবে; সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
