সব চরিত্রে অভিনয় করি না

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:৫৮ এএম

উপস্থাপনা তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে কিন্তু অভিনয়েও কম যান না। সম্ভাবনার আলো ছড়িয়ে দুই মাধ্যমেই আইশা খানের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। চলতি বছরের ভালোবাসা দিবসে ‘বুক পকেটের গল্প’ তে অভিনয় করে তুমুল প্রশংসিত হন। এরপর থেকে আর থেমে নেই তিনি। শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিরিজ ‘ফ্রেঞ্জি’। সিরিজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন ইমরুল নূর

সিরিজটি সম্পর্কে জানতে চাই

‘ফ্রেঞ্জি’ বলতে পারেন এখনকার সময়ের বন্ধুত্বের গল্প। বেশ মিষ্টি এবং ইন্টারেস্টিং একটা গল্প। সম্পর্কের সবগুলো দিকই রয়েছে এখানে। সুখ-দুঃখের পাশাপাশি রিলেশনশিপ, সিচুয়েশনশিপ, রেড ফ্ল্যাগ, শেয়ারিং-কেয়ারিং, ফ্রেন্ডশিপ থেকে সব কিছু। এখানে আমার চরিত্রের নাম নীলা।

বুক পকেটের গল্পের মালিহা থেকে ফ্রেঞ্জির মিলা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

একবারেই চ্যালেঞ্জিং না। মালিহা চরিত্রটা ছিল চঞ্চল প্রকৃতির, যে কী না তার জীবন নিয়ে সিরিয়াস। চঞ্চলতার মধ্য দিয়ে তার জীবন প্রবাহিত হতো। কিন্তু এখানের মিলা চরিত্রটি একদম সিরিয়াস ক্যারেক্টর। সে এতটা দুষ্টুমি করে না। বাস্তব জীবনে কিছু মেয়ে থাকে যারা জায়গা মতো বুদ্ধিমতি, চঞ্চল ঠিক সেরকম প্রকৃতির একটা মেয়ে হচ্ছে মিলা। মিলা আর মিতু দুজন ভালো বন্ধু। তবে মিতু একটু মারকুটে টাইপের। কথায় কথায় প্রতিবাদ করতে দাঁড়িয়ে যায়। ঝগড়া করতে শুরু করে। কিন্তু মিলা হচ্ছে একদম মিতুর বিপরীত। মিতু যতটা রাগী, ঠিক ততটাই চুপচাপ মিলা। সারাক্ষণ বইয়ের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে। মিলা কনটেন্ট রাইটার হিসেবে চাকরি করছে। ওই জায়গা থেকে সে পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে।

এই সিরিজটিতে আপনার ভালো লাগার দিক কোনটি বা কেন এই চরিত্রটি করতে রাজি হলেন?

প্রথম কারণ সিরিজটির পরিচালক জাহিদ প্রীতম ভাইয়া। উনি যখন একটা গল্প বলে তখন সেটা অনেক সহজ মনে হয়। তবে আমি জানি সেখানে অনেক বৈচিত্র্যতা থাকে। আর সেটা আমি ঠিকঠাক বুঝতেও পারি। যার কারণে কাজটা উপভোগ করা যায়। দ্বিতীয়ত হচ্ছে এর গল্প। সিরিজটি ‘ফ্ল্যাট ১৪৩’’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। আমি সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করিনা। আর এই সিরিজটির যে গল্প, এই ধরনের গল্পে আমার তেমন কাজ করা হয় না। তা ছাড়া জেনারেশন - জেডদের বেড়ে ওঠার সময়ের গল্প নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আমার তো সচরাচর রোমান্টিক, স্যাড রোমান্টিক বা সিরিয়াস ক্যারেক্টারে অভিনয় করা হয়। সেদিক থেকে এটা আমার জন্য অন্যরকম ভালো লাগার। আর তৃতীয় কারণ হচ্ছে সিরিজটিতে আমার সহকর্মীরা। এই সব কিছু মিলিয়ে কাজটা করতে রাজি হওয়া। 

উপস্থাপনার পর অভিনয় কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করাতে পারল?

প্রতি বছরেই অনেক বেশি না হলেও কিছু নাটক করা হতো। কিন্তু আমি যে ধরনের কাজ করি বা মেধা আছে তা কাজে লাগানোর সুযোগ হচ্ছে না, সেটা নিয়ে অনীহা বোধ করতাম। যার ফলে নাটকে অভিনয় করে স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছিলাম না। ‘বুক পকেটের গল্প’ এ কাজ করার পর আমার মনে হয় পরিচালকরা আমাকে নিয়ে কাজ করতে একটু সাহস পাচ্ছিলেন। তারপর থেকে তো এখন অভিনয়ে নিয়মিত হই। এখন ভালো ভালো নাটকে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে।

উপস্থাপনা নাকি অভিনয়, কোনটা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান?

উপস্থাপনা কখনো ছাড়ব না। জীবনে যদি কোনো কিছু নিয়মিত করতে পারি তা হবে উপস্থাপনা। এক সময় অভিনয় ছেড়ে দিতে হতে পারে। তবে উপস্থাপনা ছাড়তে চাই না। সব্যসাচীর মতো গুণী অভিনেতা অভিনয় থেকে বিরতি নিচ্ছে। একটা সময় হয়তো আমাকেও নিতে হবে। সেই জায়গায় থেকে মনে হয়, উপস্থাপনাটা আজীবন চালিয়ে যেতে পারব। দিন শেষে তো কথাই বলছি, একেকজনের বিষয়ে জানছি। কোনো কিছু শিখতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি মনে করি, উপস্থাপনা অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করে। অনেক ব্যক্তি, বিষয়বস্তু জানতে সাহায্য করে। উপস্থাপনা আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তাই উপস্থাপনা কখনো ছাড়ব না।

সাম্প্রতিক ব্যস্ততা

সামনে ভালোবাসা দিবস। এখন সেটা ঘিরেই কাজের প্রস্তাব আসছে। কিছু নাটক করা হয়েছে, সামনে হয়তো আরও করা হবে। এর বাইরে সামনে একটা রিয়েলিটি-শো ‘তে আমাকে দেখা যেতে পারে। সেটার প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত