‘অভিজ্ঞ’দের ছাড়াই ভালো বাংলাদেশ!

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:২৩ এএম

১৮ বছর পর বাংলাদেশ ওয়ানডে একাদশে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম তিনজনের একজনও নেই। বলা যায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতম ৩ ক্রিকেটারই একাদশে নেই। কেউ রাজনৈতিক কারণে, কেউ ব্যক্তিগত কারণে আবার কেউ চোটের কারণে দলে নেই। ২০০৬ সালের ৪ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের খেলা ৩১০টা ওয়ানডে ম্যাচই ত্রয়ীর কেউ না কেউ ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেক উজ্জ্বল অধ্যায়ের এই তিনজন, তবে একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে দলের সর্বনাশ ডেকে আনার দায়টাও তাদের কাঁধে বর্তায়। অভিজ্ঞতায় ভারিক্কি হয়ে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ আফগানদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরেছে ৯২ রানে। সমতা ফেরানোর ম্যাচে বাংলাদেশের তরুণরাই ভালো করলেন আর সবচেয়ে হতাশ করলেন অভিজ্ঞতম ক্রিকেটারটিই।

শারজায় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ করেছে ৭ উইকেটে ২৫২ রান। ১১ ইনিংস পর পঞ্চাশ পার করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচে ৪৭ রানে আউট হয়েছিলেন, শনিবার শান্ত খেলেছেন ১১৯ বলে ৭৬ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস। তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের শুরুটাও খারাপ হয়নি। তবে একই ওভারে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে মারতে গিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বিদায় নেওয়াতে ফের একটা ধসের শঙ্কা জেগেছিল, সেটা হতে দেননি এই ম্যাচেই অভিষিক্ত জাকের আলী অনিক আর ১ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামা নাসুম আহমেদ। সিলেটের এই দুই ক্রিকেটারের ব্যাটেই শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ, তাদের ৪১ বলে ৪৬ রানের জুটিটাই বাংলাদেশকে ২০০ রান পার করিয়েছে। এরপর জাকেরের সঙ্গে তাসকিনের ছোট্ট কিন্তু কার্যকর জুটিতে শেষ বলের ছক্কায় বাংলাদেশের রান ২৫০ অতিক্রম করে।

চোটের কারণে মুশফিকের এই সিরিজ তো শেষই, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট খেলাও অনিশ্চিত। তার জায়গায় একাদশে জাকের আলী, লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকে বসিয়ে তার জায়গায় বামহাতি স্পিনার নাসুমকে জায়গা দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বল হাতে পাননি এখনো তবে তার আগে ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন, ২ ছক্কা আর ১ চারে সাজানো ২৪ বলে ২৫ রানের ইনিংসটা বাংলাদেশের রান তোলার গতিটা বাড়িয়েছে।

তানজিদ তামিম আর সৌম্য মিলে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। কিন্তু আগের ম্যাচের  ৬ উইকেট শিকারি গজনফরকে ছয় মারার পরের বলে আবারও একই প্রচেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন মোহাম্মদ নবির হাতে। সৌম্য ২ চার আর ২ ছক্কায় ৪৯ বলে ৩৫ রান করার পর রশিদ খানের বলে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার। শান্ত রানের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তবে টিকে থেকেছেন। রশিদ খানের বলে বেশ কয়েকবারই আউট হতে হতে বেঁচেছেন, একবার তো গজনফরের বলে আম্পায়ার আউট দেওয়ার পরও রিভিউ নিয়ে বেঁচেছেন। বল ট্র্যাকার দেখিয়েছে উইকেট মিসিং। তবে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দেওয়ার পরও নানগোলিয়ান খারোটের ওভারের দ্বিতীয় বলেই ডাউন দ্যা উইকেটে এসে কেন ব্যাট চালাতে গেলেন সেটাই বোধগম্য নয়।  ইনিংয়ের তখনো ৫৮ বল বাকি, সেঞ্চুরিটা নিশ্চিতভাবেই হাতছাড়া করলেন অধিনায়ক। তবে এরপর যা হলো তা অবিমৃষ্যকারিতার উজ্জ্বল উদাহরণ।

দ্বিতীয় বলে শান্তকে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়তে দেখেও পঞ্চম বলে একই কাজ করলেন মাহমুদউল্লাহ। এবং ফলও একই। ক্রমশ উন্নতির ধারা বজায় রেখে গত তিন ওয়ানডে ইনিংসে ০, ১ এবং ২ রানে আউট হওয়ার পর কাল মাহমুদউল্লাহ করেছেন ৩ রান। বেঙ্গালুরুতে এই ভুল করেই বাংলাদেশকে তীরে এসে তরী ডোবানোর অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছিলেন, ৮ বছর পরও সেই একই অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন শারজায়। ২ উইকেটে ১৫২ থেকে ৬ উইকেটে ১৮৪, ৩২ রানে ৪ উইকেটের পতনে আরেকটা ব্যাটিং ধস মঞ্চায়িত হয়েই যেত, অন্তত নাসুম আউট হয়ে গেলে এরপর স্রেফ তিন পেসার বাকি। তবে মাহমুদউল্লাহর প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছেন অভিষিক্ত জাকের আর ১ বছর পর খেলতে নামা নাসুম। তাদের রুখে দাঁড়ানোর ফল বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৫২।

নাসুম আহমেদ পরে বোলিংয়েও ভালো করেছেন। ২৮ রাতে নেন ৩ উইকেট। বাংলাদেশ ম্যাচ জেতে ৬৮ রানে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত