জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, ‘শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে দুই হাজার মানুষ জীবন দেয়নি, অর্ধলাখ মানুষ রক্ত দেয়নি, আর অভ্যুত্থানও হয়নি। বিগত ১৬ বছরে দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমগুলোর জন্য মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। তাই পুরো বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিল বলে অভুত্থান ঘটেছিল, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছিলেন। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এই দেশের ছাত্র-জনতার সরকার। সাধারণ মানুষের সরকার। তাই এই সরকার বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট সিস্টেমগুলো সংস্কার করার নৈতিক অধিকার রাখে। প্রত্যেকেরই তাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। একটি যৌক্তিক সময়ে সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন দিতে হবে।’
গতকাল শনিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিগত আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশন সংস্কার না করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যাবে না। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর এমনকি ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশের সংবিধান পাঁচ বছর পরপর দেশের মানুষকে জনতার সরকার উপহার দিতে পারেনি। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে পারেনি। সেই সংবিধানও সংস্কার প্রয়োজন। বড় বড় ইশতেহার দিয়ে প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে তারা ইশতেহার ভুলে যায়।
সারজিস আলম বলেন, সবকিছু সংস্কার করে নির্বাচন দিতে হবে এমন নয়, নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচনে যেতে হবে। তা না হলে আমরা আগের জায়গাতেই থেকে যাব। সংস্কারের জন্য আগামী পাঁচ-ছয় বছর লাগবে, আমরা এমনটি বলছি না। তবে ন্যূনতম যৌক্তিক সময় লাগবে সংস্কারের জন্য। ১৬ বছরে যে সিস্টেমগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, সেই সিস্টেমগুলো সংস্কার করতে যৌক্তিক সময় প্রয়োজন।
সারজিস আলম আরও বলেন, ১৬ বছরে দেশের নামিদামি রাজনৈতিক দলগুলো ফ্যাসিস্ট সরকারের টনক নড়াতে পারেনি। তাই অল্প কিছু লোকের কারণে অভ্যুত্থান সফল হয়নি। দেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামায় অভ্যুত্থান সফল হয়েছে।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ প্রসঙ্গে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সারা দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি শহীদ পরিবারের তালিকা আমাদের কাছে এসেছে। আপাতত যাচাই-বাছাই করে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হচ্ছে। সিলেটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ৩২ জন শহীদের তালিকা দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে ১৮ জনের পরিবারের হাতে ৫ লাখ টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থাকায় সেগুলো যাচাই শেষে চেক প্রদান করা হবে।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধসহ ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
