দুদিন মহাসড়কে শ্রমিকরা ৩০ কারখানায় ছুটি

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০২ এএম

গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গত দুদিন ধরে অবরোধ করে রেখেছে টিঅ্যান্ডজেড গ্রুপের শ্রমিকরা। কারখানা মালিকের কাছে তাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। ওই বকেয়া বেতন পরিশোধে মালিকপক্ষ পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে বারবার শ্রমিকদের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। টিঅ্যান্ডজেড গ্রুপের দুজন মালিকের মধ্যে একজন দেশের বাইরে আছেন, আরেকজন ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিল বকেয়া থাকায় কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপারকে মালিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দুই মাসের বকেয়া পরিশোধে তাদের ১১ কোটি টাকা প্রয়োজন। এ টাকা সংগ্রহে তারা চেষ্টা করছেন। টিঅ্যান্ডজেড গ্রুপের শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে গাজীপুরে অন্তত ৩০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে দুদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার পথ বন্ধ থাকায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লাখ লাখ মানুষ ও পরিবহন পড়েছে চরম বেকায়দায়। নানা ভোগান্তি আর দুর্ভোগের মধ্যে দুদিনে অধৈর্য হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসন বিকল্প পথে চলাচলের জন্য বলেছে।

বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো গাজীপুর মহানগরীর মালেকের বাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন টিঅ্যান্ডজেড গ্রুপের মালিকানাধীন ছয়টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তারা জানিয়েছেন, বারবার বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তারা মানা হয়নি, বেতন ছাড়া মহাসড়ক ছাড়বেন তারা।

গতকাল রবিবার দুপুরে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বেতনের জন্য শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান করছেন। তাদের একটাই কথা বেতন না পাওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক ছেড়ে যাবেন না। শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য একাধিকবার সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনসহ মালিককের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। মালিক আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, গত বৃহস্পতিবার বেতন অবশ্যই পরিশোধ করবেন। মালিকপক্ষকে একাধিকবার সময় দেওয়া হয়েছিল, ওনারা বারবার বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। যে কারণে শ্রমিকরা এখন আর আমাদের কথা বিশ্বাস করে না। তিনি আরও বলেন, ‘টিঅ্যান্ডজেড গ্রুপের দুজন মালিক। বর্তমানে একজন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। যিনি দেশে আছেন তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি মন্ত্রণালয়ে বসে আছেন। যেখানে এক্সপোর্ট বিল্ডআপ ফান্ড আছে। এখানে ওনার কিছু টাকা আছে। উনি চাচ্ছেন এই টাকা যদি ওনাকে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, প্রায় ১১ কোটি টাকার মতো তাহলে এ দুই মাসের বেতনের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। ওনার জরুরি মুহূর্তে ১০ থেকে ১১ কোটি টাকার দরকার বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

এদিকে বেতন না পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা মহাসড়ক ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শনিবার রাতে পালাক্রমে মহাসড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। অনেকে রাস্তায় মশারি টানিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন। অনেকে লাঠি হাতে সড়কে অবস্থান নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত