সিডিএতে বরখাস্ত আতঙ্ক

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:১৫ এএম

বরখাস্ত আতঙ্ক বিরাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ)। গতকাল সোমবার এক প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করায় অন্যদের মধ্যেও একই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক যুগ আগে চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে করা মামলা চলমান থাকায় ওই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে একই মামলায় সিডিএর একাধিক প্রকৌশলী চার্জশিটভুক্ত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাদী হয়ে মামলা করেছিল।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রকৌশলী হলেন সিডিএর অথরাইজ অফিসার-১ মোহাম্মদ হাসান। ২০১২ সালে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে করা ৪৩/২০১২, ৪১/২০১২, ৪০/২০১২ নম্বরের মামলাটি চলমান থাকায় সিডিএ কর্মচারী বিধিমালা ১৯৯০-এর ৪০(ঙ) ধারায় চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে সিডিএর সচিব রবীন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়। গতকালের এই আদেশ প্রসঙ্গে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় অভিযুক্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। আমরা সেই আলোকে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

মামলায় তো সিডিএর আরও একাধিক প্রকৌশলী অভিযুক্ত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধেও কি এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সিডিএর সচিব বলেন, ‘বাকিদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে আমরা তা কার্যকর করব।’

এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক যুগ্ম সচিবের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যদি কোনো প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা থাকে এবং মামলার পর্যাপ্ত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে থাকে, তাহলে তারা (সংশ্লিষ্ট দপ্তর) চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারে। আর সে আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বরখাস্তের অফিস কপি কর্মকর্তাদের মধ্যে বণ্টনের পর থেকে তা সিডিএর আলোচ্য বিষয় হয়ে যায়। সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটাই প্রশ্নÑ তাহলে কি বাকিরাও সাময়িক বরখাস্ত হবেন? আর একই মামলায় শুধু একজন কেন হবে? বাকিরা হবেন না কেন? এখন নিশ্চয় পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও করা হবে। এমন আলোচনা চলছিল সিডিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তবে তাদের কেউ নিজের নাম প্রকাশ করতে চায়নি। নিজের বরখাস্তকরণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘এ মামলায় তো শুধু আমি একা নই, আরও প্রকৌশলী রয়েছেন। যদি আমি সাময়িক বরখাস্ত হই, তাহলে বাকিদেরও একই পরিণতি হওয়ার কথা।’

তবে এ প্রকৌশলীর বরখাস্তের কারণ প্রসঙ্গে জানা যায়, বহদ্দারহাটর কাঁচা বাজারে প্রবেশ করার সময় হাতের বাম পাশে একটি মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদটির ১০ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদনে প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘এই মসজিদ নিয়ে দুটি পরিচালনা কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া মসজিদটির নকশায় যেখান দিয়ে প্রবেশ পথ দেখানো হয়েছে সেখানে সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে একটি তিনতলা মসজিদ রয়েছে বলে পূর্ববর্তী অথরাইজ অফিসারও অনুমোদন দিতে পারেননি। তাই বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমিও দিতে পারিনি।’

কালুরঘাট সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের করা মামলায় ২০১২ সালের মে মাসে অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে অভিযুক্ত প্রকৌশলীরা আদালতের জামিন নিয়ে মামলা পরিচালনা করে আসছিলেন। এর আগে চট্টগ্রামের কালুরঘাট রোডের বিএফআইডিসি মোড় থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ১ কোটি ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৫২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর নগরীর চান্দগাঁও থানায় দুদকের দ-বিধি ৪০৯/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার পৃথক পৃথক ২২ মামলা করেছিল দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত