যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসপ্রায় অবস্থার মতো দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল থানা। থানা ভবনের ভেতর-বাইরে আগুনে পোড়ার দগদগে ক্ষতচিহ্ন ও কালচে ছোপ ছোপ দাগ। সার্বিক সুযোগ-সুবিধায় একসময়ের স্বয়ংসম্পূর্ণ এ মডেল থানা এখন ৫ আগস্টের গণরোষ ও দুর্বৃত্তের থাবার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের শততম দিন পার হলেও এখনো সেখানে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি পুলিশ। পাশের একটি সরকারি কোয়ার্টারের ভবন থেকে ঢিমেতালে চলছে দাপ্তরিক কাজ। সেখানে হাজতখানা না থাকায় আটক বা গ্রেপ্তার আসামিদের রাখা হয় নিকটবর্তী কাফরুল থানার হাজতখানায়। পুনর্গঠন কাজ চলা এ থানার যানবাহন, অস্ত্র-গুলি ও কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব রসদ (লজিস্টিক) ধ্বংস হয় সে সময়। ফলে থানার আওতাধীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ অন্যান্য কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে।
অবশ্য ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেই নিজেদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান থানাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘থানার হাজতখানা এখনো ঠিক হয়নি। আসামি গ্রেপ্তার করে কাফরুল থানায় রাখা হয়। আর থানার কার্যক্রম পেছনের কোয়ার্টারের ভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। থানা মেরামতের কাজ চলমান। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়েই আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছি।’
একই দশা হয়েছিল ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানারও। যদিও গত মঙ্গলবার থেকে নিজস্ব ভবনেই কাজ করছেন থানাটির পুলিশ সদস্যরা। এর আগপর্যন্ত কার্যক্রম চলত পাশের ডেমরা থানা ভবন থেকে। নিজস্ব ভবনে কাজ শুরু করলেও এখনো নানা রসদ ঘাটতিতে আছে যাত্রাবাড়ী থানা। থানাটির ওসি ফারুক আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১২ নভেম্বর আমরা আমাদের থানায় কাজ শুরু করেছি। তবে যানবাহন ও কিছু আসবাবপত্রের সংকট রয়েছে। খুব দ্রুত সেই সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে।’
অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে সেটা নির্ভর করে সেই দেশের থানাগুলোর কার্যক্রমের ওপর। অথচ গত ৫ আগস্ট ও তার পরের কয়েক দিনে গণরোষ ও দুর্বৃত্তের হামলার মুখে পড়ে দেশের সব থানা। পুলিশ সদর দপ্তরের গত ১২ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি থানার সবকটিতেই হামলা, লুটপাট বা ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। যার মধ্যে ৪০টি থানা যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর মডেল থানার মতো একেবারেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ফলে ভেঙে পড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দেশ জুড়ে দেখা যায় বিচারহীনতার জোর প্রবণতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে যৌথ বাহিনী। এরপরও সারা দেশে গত তিন মাসে তথাকথিত মব জাস্টিসে (দলবদ্ধভাবে জোর করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া) নিহত হয়েছে ৬৮ জন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, মবে ফেলে গত আগস্টে ২১, সেপ্টেম্বরে ২৮ ও অক্টোবর মাসে ১৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তার আগে চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে আসকের তথ্য অনুযায়ী, মবে ফেলে হত্যার সংখ্যা ছিল ৩২। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) তোফাজ্জেল হোসেন ও একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শামীম আহমেদকে ক্যাম্পাসের মধ্যেই দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা। এ ছাড়া খাগড়াছড়িতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আবুল হাসনাত মুহাম্মদ সোহেল রানা নামে এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার মতো বিভিন্ন ঘটনাও সমালোচিত হয়েছে। যদিও শুধু আলোচিত ঘটনাগুলোর ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। অন্যগুলো থেকে যায় আড়ালেই।
মবে ফেলে মানুষ হত্যা এবং এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) ইনামুল হক সাগরের কাছে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই বিষয়গুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ঢাবি, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রামের ঘটনায় অপরাধীরা আইনের আওতায় এসেছে। সব ঘটনায় অপরাধীদের ধরা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় ৯৯৯ বা থানা-পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান রইল।’
বেহাত অস্ত্র-গুলি, বাড়াচ্ছে নিরাপত্তার শঙ্কা : পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ও এর আগে-পরে দুর্বৃত্তরা থানা, কারাগার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার ৮২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি গুলি লুটে নেয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৮৩টি অস্ত্র এবং ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৮২টি গুলি এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল ও স্নাইপার রাইফেল রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদসহ ৩২টি ভারী অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, ‘আমরা অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। অস্ত্র উদ্ধারে খুব জোর দিয়ে কাজ করছে যৌথ বাহিনী। গত ১৮ অক্টোবর থেকে বিশেষ অভিযানও পরিচালনা হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি।’
আধিপত্য বিস্তারে বাড়ছে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষ : আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, দখল ও মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীরা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে মরিয়া হয়ে উঠছে। যার প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে বহু হতাহতও হচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে গত ৫ আগস্টের পর থেকে মাদক কারবারি গ্রুপগুলোর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে নয়জন। আহত হয়েছে শতাধিক। গত ৩০ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ এলাকায় মাদক কারবারিদের দুপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিতে প্রাণ হারান আয়েশা নামে এক গৃহবধূ।
টহল পুলিশ না থাকায় বেপরোয়া ছিনতাই-ডাকাতি : গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যানবাহন সংকটে কিছুদিন রাতে পুলিশের তেমন টহল না থাকায় রাজধানীতে বেপরোয়া হারে বাড়তে থাকে ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা। শুধু রাতে নয়, দিনদুপুরেই অস্ত্র নিয়ে রাস্তা, দোকান, বাড়িতে ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ছিনতাই-ডাকাতি ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক যুবকরা রাতে টহল দেয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দল বেঁধে মহড়া দিয়ে ছিনতাই, দিনদুপুরে রাস্তার মধ্যে গাড়ি থামিয়ে টাকা ছিনতাই এবং এমনকি ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়েও কয়েকটি জায়গায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ঢালাও বদলি, চেনে না অলিগলি : ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনীতে বিপুলসংখ্যক বদলি হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় নতুন মুখ। আর নতুন কর্মস্থলে এলাকা চিনতে না পারা ও সোর্স না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয় পুলিশ সদস্যদের। আবার অনেক কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলির আদেশের পর ‘অবিলম্বে’ যোগ দিতে বলা হলেও অনেকেই যোগ দেননি। এর প্রভাবও পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কাজের গতি বাড়াতে বদলি বা রদবদলের বিষয়টি অনিবার্য ছিল উল্লেখ করে ইনামুল হক সাগর বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকে যেটা করেছি তা হলো ইউনিট চিফ, রেঞ্জ ডিআইজি ও কমিশনার পদগুলোতে নতুন নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পরিবর্তন অনিবার্য ছিল। নতুন কর্মকর্তারা পুলিশকে নতুন করে সাজিয়েছেন। মানুষের সেবাসংক্রান্ত যে বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নতুন করে চালু করা হয়েছে। এ বদলিগুলো করা হয়েছে কার্যক্রম গতিশীল করতে।’
সার্বিক বিষয়ে অপরাধ-বিশেষজ্ঞ এবং ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত অবস্থানে ছিল পুলিশ বাহিনী। তারা এ পরিস্থিতি কাটিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডসহ পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের কর্মদক্ষতার ঘাটতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। নতুন উদ্যোগের কথা পুলিশ বলছে, কিন্তু মাঠে তার ফল দেখা যাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে যাওয়ায় আগের মতো কাজ করছেন না। তারা নতুন করে কোনো বিতর্কে জড়ানোর ভয়ে গা-ছাড়াভাবে কাজ করছেন। এ ছাড়া ঢালাও বদলির কারণে নতুন জায়গায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে না। পুলিশকে সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে নতুন করে সাজিয়ে পুলিশিংয়ের যে সেবা রয়েছে, সেই সেবায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তাদের মনোবলের জন্য সমাজের প্রতিটি মানুষকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
ট্রাফিকের দায়িত্বে শিক্ষার্থীরা : পুলিশের কার্যক্রম ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাও স্থবির হয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সড়কে যান চলাচল পরিচালনার হাল ধরেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হলে কিছুদিন পর রাস্তায় নামে ট্রাফিক পুলিশ। তবে রাস্তায় নামলেও যানজট নিরসনে তাদের কার্যক্রম দেখে হতাশ হয় নগরবাসী। ট্রাফিক পুলিশের বেশিরভাগ বক্স নষ্ট হওয়ায় বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় দায়িত্ব পালনেও ব্যাঘাত ঘটেছে। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের মাঠপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক বদলি হওয়ায় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা বুঝতেও সময় লাগছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে ৪০০ শিক্ষার্থী দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মহানগরী এলাকায়।
পুলিশে জনবল ও মনোবলের যে ঘাটতি, তা ফেরানোর তাগিদ দেন বাহিনীটির সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নূর মোহাম্মদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যদিও পুলিশের সম্পর্কে মানুষের ধারণা কখনই ভালো ছিল না। পুলিশকে ভালো করার জন্য কোনো সরকারই সেভাবে চেষ্টাও করেনি। এবার যেটা হলো, আমরা যেটা কোনোদিন দেখিনি, শুনিনি এবং ইতিহাসেও পড়িনি। জুলাই-আগস্টে পুলিশের ওপর দিয়ে যেটা গেল, তা কখনই কেউ কল্পনা করেনি। দুই-আড়াইশ বছর আগে পুলিশের জন্ম হলেও থানা কখনো বন্ধ হয়নি। কিন্তু গত কয়েক মাস আগে থানা আক্রমণ করা হলো, স্থাপনা ধ্বংস হলো। এখন এ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসব? এটাই হলো প্রশ্ন।’
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা সব জায়গায় যেতে, তদন্তে বা তথ্যানুসন্ধানে যেতে ভয় পাচ্ছেন উল্লেখ করে নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘ভয় পাওয়ার একটাই কারণ, তারা মনে করে যেখানেই যাক না কেন, শারীরিক লাঞ্ছনা ও অপদস্থ হতে পারে। এ ভয় কিন্তু এত সহজে কাটবে না। এটা কাটতে সময় লাগেব। তিন মাস খুব বেশি সময় নয় এটার জন্য। এখনো আমরা দেখি, ট্রাফিক যদি উল্টো দিক থেকে আসা কাউকে আটকায় তাকে রিকশাওয়ালা মারতে যায়। একজন ইন্সপেক্টর কাজে গেলে তার ক্যাপ ধরে ছেলেরা টান দেয়। এগুলো কোনো ভালো বিষয় নয়। আসলে পুলিশের মনোবল ও জনবল দুই জায়গাতেই তো ধাক্কা লেগেছে? এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে এসব ফিরিয়ে আনতে হবে। জনবল না হয় আছে কিন্তু মনোবলটা ফেরাবেন কীভাবে? এটার জন্য যেটা প্রয়োজন, সেটা হলোÑ জনতার সঙ্গে থানা-পুলিশের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ ছাত্র-জনতা মিলে পুলিশকে সাহস দিতে হবে। তাহলেই ধীরে ধীরে পুলিশ তাদের কাজ করতে পারবে।’
পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন : ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে সংস্কার করতে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। যারই ধারাবাহিকতায় পুলিশকে আগের খোলস থেকে বের করে আনতে এ বাহিনীতে সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে সাবেক সচিব সফর রাজ হোসেনকে প্রধান করে ৯ সদস্যের পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। ৩ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত বিবেচনা করে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। কমিশনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমিশন সফর রাজ হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে, তিনি রিসিভ করেননি।
সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এআইজি ইনামুল হক সাগর বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেখান থেকে আমরা খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছি। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সক্রিয় করা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া থানাগুলোতেও দ্রুত গতিতে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অপরাধের মাত্রা দ্রুত কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।’
