কথা রেখেছেন পাপন

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৪৯ এএম

২০২২ সালে ১ জুন অভিষেক হয়েছিল তার। সেবারই প্রথম জাতীয় দলে ডাক পেয়ে কথা দিয়েছিলেন ম্যাচ খেলার সুযোগ যদি পান, যে করেই হোক দলকে জয় এনে দিতে চান। প্রতিশ্রুতিটা দুই বছরের বেশি সময় পর পূরণ করেছেন পাপন সিংহ। ২৩-এ পা রাখা এই মিডফিল্ডার শনিবার মালদ্বীপের বিপক্ষে বদলি নেমে বাজিমাত করেছেন, দলকে জিতিয়েছেন যোগ করা সময়ের গোলে।

নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার শনিবার নেমেছিলেন নিজের তৃতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে। খুব বেশি সময় অবশ্য পাননি। এই ম্যাচের অধিনায়ক সোহেল রানার জায়গায় ৮৯ মিনিটে মাঠে এসেছিলেন আবাহনীর এই মিডফিল্ডার। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যায় নির্ধারিত ৯০ মিনিট। তখনো ম্যাচ ১-১-এ সমতা। জিততে না পারলে ফিফা প্রীতি সিরিজটা হারতে হবে। ফোর্থ অফিশিয়াল যখন নিয়নবাতি জ্বালিয়ে জানালেন অতিরিক্ত সাত মিনিট মিলবে ঘরের মাঠে সিরিজ হারের লজ্জা এড়ানোর। তখনই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন পাপন, ‘যে করেই হোক জিততে হবে আমাদের। এই মালদ্বীপের কাছে হার আমাদের কাম্য নয় কোনোভাবেই। প্রথম ম্যাচটা হেরে গিয়েছিলাম। এই ম্যাচে দলকে জেতাতে জান বাজি রাখতে রাজি ছিলাম। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেই সুযোগটা দিয়েছেন। দলকে জেতাতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।’

হাভিয়ের কাবরেরাই প্রথম তাকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডেকেছিলেন। তবে নিয়মিত জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। সেরা একাদশেও পারেননি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। শনিবারও কোচ তার জন্য বরাদ্দ রেখেছিলেন অল্প সময়। তবে এইটুকু সময়েই ফুটবল ক্যারিয়ারে সেরা কীর্তিটা গড়ে ফেললেন পাপন। এই গোলের অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করাই দায় ছিল তার জন্য। মিক্সড জোনে অনেকটা জোর করেই কথা বলতে হয় পাপনের সঙ্গে। কাবরেরার কড়া বারণ ছিল যাতে কারও সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেওয়া না হয়। স্প্যানিশ কোচ হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচের নিয়মটাই ভুলে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে বাফুফের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তাদের কথা কাটাকাটি হয় পাপনের সামনেই। পরে অবশ্য এই জয়ের সব কৃতিত্ব সতীর্থ ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় উপস্থিত সব সমর্থককে দিয়েছেন পাপন।

পাপন বাবা-মার একমাত্র সন্তান। মাটির ঘরে বেড়ে ওঠা। পাপনের ফুটবলপ্রীতি ২০০৯ সালে। বঙ্গবন্ধু প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ দিয়ে শুরু পথচলা। এরপর পাওনিয়ার লিগে মিরপুর সিটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। সেখানে নিজের জাত চিনিয়ে ডাক পান ঢাকা মোহামেডানের ‘বি’ দলে। সেখান থেকে উত্তর বারিধারার মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে পদার্পণ। এই ক্লাব চার মৌসুম কাটানোর পর দুবছর ধরে তার ঠিকানা ঢাকা আবাহনী।

দুবছর আগে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় তার মা ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। নিজেই বলেছিলেন মা ফুটবল খেলা না বুঝলেও জাতীয় দলে ছেলের সুযোগ পাওয়াটা যে অনেক বড় ব্যাপার সেটা বুঝতে পেরেছিলেন। সেই মায়ের মুখের হাসিটা আজ আরও চওড়া হলো পাপনের জয়সূচক গোলে। এই জয়টা যে পরম আকাক্সিক্ষত। এটি ছিল বাংলাদেশ দলের এই বছরের শেষ ম্যাচ। সবার চাওয়াটাই পূরণ করলেন পাপন। এবার তার আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত