বিপ্লবে বাচ্চারা গুলির সামনে জীবন দেয় আর মুরব্বিরা পদ ভাগাভাগিতে মেতে উঠেন বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘বাচ্চারা গুলির সামনে দাঁড়াল, বিপ্লব হলো; এখন পোস্ট ভাগাভাগি করছেন মুরুব্বিরা। আর বলছেন, বাচ্চারা কী বুঝবে; কী পারবে; আর কী করবে? আমরা বলব তরুণদের মতামত নেন, উপযুক্ত কাজে লাগান। আপনাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও তরুণদের সাহসিকতার সমন্বয়ে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে নজর দিতে হবে।’
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে শিক্ষা অধিকার সংসদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সামনে প্রতিটি প্রশ্নের বিনিময়ে বুদ্ধিজীবীরা সুবিধা নিতেন বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের যারা আছেন, তাদের সঙ্গে আমরা যখন আলোচনা করি; কথা বলি, তখন কিন্তু বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শিবির, ছাত্রদল; কী করছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করি না। আমাদের আলোচনা হয়, সিস্টেম নিয়ে; কীভাবে এগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়ে আমরা ভাবছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুরুব্বিরা কী বলছেন; কী করছেন; তা নিয়ে আলোচনায় সময় ব্যয় করছি না। কারণ আমরা মুরুব্বিদের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা আমাদের উপযুক্তভাবে কাজে লাগাতে পারছেন না। আমি এখানে ইউজ শব্দটা ব্যবহার করছি না। আমি বলছি, তারা উপযুক্ত কাজে ইতিবাচকভাবে আমাদের কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ার চিন্তা-ভাবনাটাও করছেন না।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তরুণরা শুধু ইতিহাসের পাঠক নয়, এবার তারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাই ইতিহাসে যার যে অবদান পাঠ্যপুস্তককে তা যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধসহ জাতীয় অর্জনকে একজনের একক অবদান হিসেবে তুলে ধরার অপপ্রয়াস থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাঠ্যপুস্তকে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অতিরঞ্জিত প্রশংসার ফলে তার প্রতি বিরক্তির উদ্রেক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
