মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দায়িত্বে অমিত শাহ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৬ এএম

নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় অশান্ত হয়ে উঠেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর। মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায়, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির প্রভাবশালী নেতা অমিত শাহ। গতকাল সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মণিপুরে ক্ষমতাসীন বিজেপির মন্ত্রী-এমএলএদের বাসভবনে হামলার ঘটনার পর এখন রাজ্যের নিরাপত্তা পর্যালোচনার দায়িত্ব নিয়েছেন অমিত শাহ। সোমবার মহারাষ্ট্রে পূর্বনির্ধারিত চারটি নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করে নিরাপত্তা পর্যালোচনা সভা করছেন তিনি। সম্প্রতি রাজ্যটির জিরিবামের একটি নদী থেকে অপহৃত তিন নারী এবং তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যটি। ফলে নতুন করে উত্তেজনা, সহিংসতা ও অশান্তির নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রথম পর্বে শান্ত থাকা জিরিবাম জেলা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, রবিবার জিরিবাম জেলার বাবুপাড়া এলাকায় উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া বিজেপি ও কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা জিরিবাম থানার পাশেই অবস্থিত বিজেপি ও কংগ্রেসের দুটি দলীয় দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সহিংসতার মধ্যে শনিবার মণিপুরে কারফিউ জারির পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজধানী ইম্ফলে সেনাবাহিনী এবং আসাম রাইফেলস মোতায়েন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বর্তমানে মণিপুরের ছয়টি থানায় সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন জারি আছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এই আইন বাতিল করে তা পুরো রাজ্যেই জারি করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে আনতে ইম্ফলে পৌঁছেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভিজিৎ এস পেনধারকর।

এদিকে মণিপুর রাজ্যের মন্ত্রী ও লোকসভার সদস্যদের বাড়িতে অগ্নিকা-ের ঘটনায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মরদেহ আবিষ্কারের পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা মণিপুরের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও এমএলএর বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পৈতৃক বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভকারী ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।

২০২২ সালের মে মাসে মেইতেই সম্প্রদায়ের আদিবাসী মর্যাদার দাবির বিরুদ্ধে কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করে। সেই থেকে এই জাতিগত সংঘাতের সূচনা। এই মর্যাদা আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে। বর্তমানে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায় ইম্ফল উপত্যকায় ও খ্রিস্টান-সংখ্যাগরিষ্ঠ কুকি সম্প্রদায় পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন নিহত ও আনুমানিক ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত