রাজধানীর উত্তরায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্বৃত্তদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের ফার্মেসি ভাঙচুর চালিয়ে নগদ ১০ লাখ টাকা ও হাসপাতাল ইলেক্ট্রিক ডিভাইস লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ সময় হাসপাতালটির প্রধান নির্বাহী (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আবু নওরজ জি এম এডমিন সাদাফ আবরারসহ বেশকিছু কর্মকর্তা ওপর হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া প্রধান নির্বাহী ও জি এম এডমিন এর কাছ থেকে জোরপূর্বকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ১০ নম্বর সড়কে অবস্থিত শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুপুর একটায় ৫০ থেকে ৬০ জন্য লোক হাসপতালে ভেতরে প্রবেশ করে লুট ও ভাঙচুর চালায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় প্রশাসনিক ভবনের সবগুলো রুম তালা বদ্ধ। কেউ কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি না। সবার মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিচে হাসপাতালের তারেক ফার্মেসিতে গিয়ে দেখা যায় দরজা ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করা হয়েছে। নিয়ে গেছে সিসিটিভির ডিভাইস। ফার্মেসির মালিক মোহাম্মদ পারভেজ দাবি করেন, তার ফার্মেসি থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ লুট করা হয়েছে। কে বা কারা করেছেন তিনি তা জানেন না। তিনি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
জি এম এডমিন সাদাফ আবরার দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুপুর একটা থেকে তিনটা পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ জন্য হাসপাতালে ভেতরে অবস্থান করে। হাসপাতালে কর্মরত এইচ আর এডমিন গোলাম কিবরিয়া, ইঞ্জিনিয়ার শরীফ, ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল ইসলাম কে ব্যাপক মারধর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। এছাড়া হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আবু নওরজ স্যারকে তারা মারধর করতে থাকে। সেখানে আমি বাঁধা দিলে তাড়া আমাকে মারধর করে একটি কাগজে আমাদের স্বাক্ষর রেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করে।
কারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের নাম পরিচয় পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডেব) এর নেতা ড. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস তার লোকজন গোলাম মাওলার নেতৃত্বে ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের সাবেক ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারী হামলায় অংশ নেয়। তারা তাদের অপকর্ম ঢাকতে আমাদের হাসপাতালের সিসিটিভির ডিভাইস নিয়ে চলে যায়।
এবিষয় উত্তরা পশ্চিম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমস্যা কথা শুনে দ্রুত সেখানে অবস্থান নেই। সেখানে যাওয়ার পর আমরা কাউকে পাইনি। হাসপাতালের লোকজনের সাথে কথা বলেছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি যান।
অভিযুক্ত গোলাম মাওলা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিবাদ দূর হলেও শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ফ্যাসিবাদ দূর হয়নি। গত ১৫ বছর ধরে সাবেক মন্ত্রী নাসিম সাহেবের পরিবার লুটপাট করে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করে ফেলেছে। সেখানে সাবেক কর্মচারী-কর্মকর্তা ও কিছু ছাত্র-জনতা গিয়েছিল। আমাকে ফোন দিলে আমিও সেখানে যাই।
ছেলের হুমকিতে দেশে ফিরতে পারছেন না স্থপতি বাবা
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারের পথে: অর্থ উপদেষ্টা