জরুরি কিছু সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচন

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০১ এএম

অতি প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কার করে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন : আইন মন্ত্রণালয়ের কৈফিয়ত’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয়ের বিগত ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা।

‘অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে সর্বত্রই একটি প্রশ্ন শোনা যায়, সেটি হলো তারা কত দিন থাকবে, তাদের মেয়াদ কত দিন হবে, নির্বাচন কবে হবে’ একজন সাংবাদিকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। তবে আপনাকে একটি বিষয় বলি, আমরা মোস্ট এসেনশিয়াল (অতি প্রয়োজনীয়) কিছু সংস্কার করে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেব। আমরা জাস্ট এই জিনিসটা চাই না যে আগের মতো কোনো ভুয়া নির্বাচন হোক। আর এটা চাই না নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে কেউ আবার ভুয়া নির্বাচন করার সুযোগ পাক। এটা ছাড়া আর কোনো স্বার্থ নেই।’ প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করছেন,  সেখানে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু চেষ্টার ঘাটতি নেই এমনটি উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন গঠনে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং ওই সংস্কার কমিশনগুলোকে সব ধরনের সাচিবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা হবে। ভালো একটা নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে অনেক উপদেষ্টা আগের পেশায় ফিরে যেতে চায়।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারির আবেদনের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশে কোনো আসামিকে না পেলে রেড অ্যালার্ট জারির আবেদন করতেই পারি। বাংলাদেশ ইন্টাপোলের সদস্য।’ শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দলের নেতাকর্মীদের ফোনালাপ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের ফেলে রেখে নিজে পালিয়েছেন। নিজে পালানোর তিন দিন আগে তার স্বজনদের বিদেশে পাঠিয়েছেন। নেতাকর্মীদের তাকে প্রশ্ন করা উচিত, তাদের ফেলে রেখে কেন পালিয়েছেন তিনি।’

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন উপদেষ্টা জানান, রাতারাতি কোনো কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা সম্ভব না। এছাড়া এই দাবিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় মানুষকে জিম্মি করে কোনো আন্দোলন না করার পরামর্শ দেন আসিফ নজরুল। আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্রেনে আক্রমণ করে নারী-শিশুকে আহত করার ঘটনা অমানবিক। সরকারকে আন্দোলনকারীরা কিছুটা পেয়ে বসেছে। তবে সরকার যখন কঠোর হবে তখন কঠোর হওয়ার মতোই হবে। বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের মতো দমন-পীড়ন চায় না। অযৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে নানা দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকার বিষয়গুলো দেখছে।’

গত ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের জন্য করা প্রায় সব ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দেশের ৬১টি জেলায় ৪ হাজার ৩০০ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দ্রুততম সময়ে সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে। এত বেশিসংখ্যক নিয়োগ বাংলাদেশে এর আগে ঘটেনি। এর মাধ্যমে সব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে। এখন যে ঢালাও মামলা হচ্ছে, মামলা বাণিজ্য করা হচ্ছে; তাও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। যারা ‘মামলা বাণিজ্য’ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত