যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজায় শান্তি ফেরাতে যুদ্ধবিরতিসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। তবে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে আলোর মুখ দেখেনি প্রস্তাবটি। নিরাপত্তা পরিষদের একমাত্র স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ভেটোর মাধ্যমে প্রস্তাবটি আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিষদে ১০টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। এতে গাজায় অবিলম্বে, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয় এবং পাশাপাশি জিম্মিদের মুক্তিও দাবি করা হয়। বুধবার অনুষ্ঠিত এ ভোটে পরিষদের অন্য সদস্যদের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, প্রস্তাবটি নিয়ে আপসের প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করা হয়েছে।
ভোটের আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো প্রস্তাব সমর্থন করবে না যেটিতে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে জিম্মিদের তাৎক্ষণিক মুক্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তার অভিযোগ, বিভিন্ন অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রকে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করছিল চীন ও রাশিয়া। তিনি বলেন, এটি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, প্রক্রিয়াটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিচালিত হয়েছে। গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের এ ভেটোকে সংকট সমাধানের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে নানা সময়ে ওয়াশিংটন প্রচেষ্টা দেখালেও, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেওয়ায় সেসব প্রচেষ্টা নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো নয়, ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। গাজায় চরম মানবিক সংকট অবসানের জন্য সিনেটে উত্থাপিত তিনটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে খারিজ হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে কিছু অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করা। কিন্তু বুধবার ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের বিরোধিতার কারণে সেগুলো পাস হয়নি। যার মধ্যে ইসরায়েলে ট্যাংকের গোলা সরবরাহ বন্ধের প্রথম প্রস্তাবটি ৭৯-১৮ ভোটে বাতিল হয়। মর্টারের গোলা সরবরাহ বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা দ্বিতীয় প্রস্তাবটি বাতিল হয় ৭৮-১৯ ভোটে। আর জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন সিস্টেম কিট সরবরাহ বন্ধের জন্য উত্থাপিত তৃতীয় প্রস্তাব ৮০-১৭ ভোটে বাতিল হয়।
বার্নি স্যান্ডার্সসহ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রস্তাবগুলোতে সমর্থন দিয়েছিলেন। ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন আচরণের কঠোর সমালোচক এ নেতারা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সিনেটের অধিকাংশই মনে করছেন, ইরানসহ অন্যান্য হুমকির মুখে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বজায় রাখা প্রয়োজন।
গত মাসে গাজায় মানবিক সাহায্যের প্রবাহ বাড়াতে ইসরায়েলকে ৩০ দিন সময় বেঁধে দেয় বাইডেন প্রশাসন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, গাজায় মানবিক অবস্থার ধীর হলেও অগ্রগতি করেছে ইসরায়েল। তবে তাদের এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সহায়তা সংস্থাগুলো।
