মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই একটা শিরোপা জিতলেন। ভুটান দুঃস্মৃতি ভুলতে নিশ্চয় এমন একটা জয় প্রত্যাশিত ছিল?
তপু বর্মণ : এই ম্যাচটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেননা, আমরা ভুটানে তিনটা ম্যাচে হেরেছিলাম, কোনো পয়েন্ট সেখানে আমরা অর্জন করতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য চাপের ম্যাচ ছিল। মোহামেডান সবসময় ভালো খেলে থাকে। তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। প্রথম গোলটা খাওয়ার পরে, প্রথমার্ধ শেষ করে আমরা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। ওই পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামার পরে আমার মনে হয়, আমরা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। যে তিনটা গোল আমরা করেছি, আমার মনে হয় আমরা আরও গোল পেতে পারতাম, আমরা আরও কয়েকটা উন্মুক্ত সুযোগ তৈরি করেছিলাম। এই জয় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আসছে প্রিমিয়ার লিগ ও ফেডারেশন কাপে এই জয় আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে। এই ম্যাচটা দিয়েই আমরা ফিডব্যাক দিলাম।
কতদিন পর গোল পেলেন। দেখলাম উদযাপনটাও করলেন ঠোঁটে আঙুল চেপে। এ রকম উদযাপনের রহস্য কী?
তপু : দেড় বছর পর গোল পেলাম। এর আগের লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে গোল করেছিলাম। এখানে অনেক গুঞ্জন হচ্ছিল। আমার কানেও অনেক কথা আসছিল। সবাইকে চুপ করাতেই গোলের এমন উদযাপন। তবে কী কারণে সবাইকে চুপ করাতে চেয়েছি সেটার ব্যাখ্যা এখন আর দিতে চাচ্ছি না। এটা আমার মৌসুমের প্রথম গোল। এই গোলটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। আমার ছেলের জন্মদিন ছিল ১৫ নভেম্বর, গোলটা ছেলেকে উৎসর্গ করতে চাই।
জাতীয় দলের হয়ে মালদ্বীপের বিপক্ষে একটা ভুল ছিল আপনার। এ রকম একটা ভুল আপনার কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। এই ম্যাচে গোল হজমে আপনার কিছুটা ভুল ছিল। গোলটা কি এ
সবকিছুর প্রায়শ্চিত্ত?
তপু : আমি নিজেই বিষয়টা অনুধাবন করেছি (এ রকম ভুল করা উচিত হয়নি)। এর জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি আপনাদের প্রতিক্রিয়াও বুঝতে পেরেছি যে, আপনারা আমার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। তবে এসব ফুটবলে হয়ে যায়। সামনের দিনগুলোতে যেন ওই ভুলগুলো না করি। ভুল থেকে শিখতে হয়। আমি সবসময় শেখার চেষ্টা করি। নিজেকে কীভাবে আরও ফিট রাখা যায়, ভালো করা যায়, সেই চিন্তা করি। দেখবেন রোনালদো, মেসিÑ ওরা কখনো অতীত নিয়ে চিন্তা করে না। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে। আমিও সেভাবেই চিন্তা করি।
আপনার গোলে সমতা হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত কি মনে হয়েছিল কিংস ম্যাচে ফিরতে পারবে না। যেহেতু ভুটানে একটা ম্যাচেও জিততে পারেননিÑ
তপু : একটা গোল হজম করা মানেই চাপটা অনেক বেড়ে যায়। এ রকম বড় ম্যাচে পিছিয়ে পড়াটা বাড়তি চাপ সবার মধ্যেই কাজ করে। তবে পরে যখন ম্যাচটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করি, তখন ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। এরপর আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। মাঝে একটা সময় খেলায় ছেদ পড়েছিল। খেলা পুনরায় শুরুর দুই-তিন মিনিট পর যে কর্নার থেকে আমার গোলটা হলো, সেটাই আমার মনে হয় ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল।
সমর্থকরা মাঠে স্মোক ফ্লেয়ার ছুড়ে মারার পর খেলা বন্ধ ছিল ১০ মিনিটের মতো। এর আগ পর্যন্ত কিন্তু কিংস আক্রমণের ঝড় তুলেছিল। এই ছেদ পড়াটা কি মনে হয় ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল?
তপু : দেখুন, ওই সময়টায় আমরা অনেক গতিময় ফুটবল খেলছিলাম। মোহামেডান সে সময় অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। স্মোকিং ফ্লেয়ারটা মাঠে আসায় উল্টো আমাদের জন্যই খারাপ হয়েছিল। কারণ আমরা তখন অনেক সুযোগ তৈরি করছিলাম। আমার মনে সেটা নেতিবাচক ছিল। তবে সেখান থেকে দ্রুতই আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমরা জিতেছি। আমি মনে করি গোটা দলের এই জয়টা প্রাপ্য।
বসুন্ধরা কিংস গত মৌসুমে ট্রেবল জিতেছে। এই মৌসুমটাও শিরোপা দিয়ে শুরু করলেন
তপু : এটা অনেক বড় স্বস্তির। গত মৌসুমে ট্রেবল জিতেছি। আবার মৌসুম শুরু করলাম শিরোপা দিয়ে। একটা দল যখন দিনের পর দিন জয়ের মানসিকতা গড়ে তোলে তখন তারা অপ্রতিরোধ্য হয়ে যায়। আমাদের ম্যানেজমেন্টও শিরোপা জয়ের জন্য অনেক বেশি ক্ষুধার্ত। চ্যাম্পিয়নরা সবসময়ই চ্যাম্পিয়ন।
জুলাই শহীদদের স্মৃতিতে এই ম্যাচ। তাদের স্মৃতির উদ্দেশে কিছু বলবেন?
তপু : এটা বিশেষ একটা ম্যাচ। আমি সব শহীদকে স্মরণ করছি। তাদের স্মৃতিতে হওয়া এই ম্যাচটা জিতেছি, ম্যাচ সেরা হয়েছি। এটা বলতে পারেন একটা ইতিহাস। কারণ এই আসরের শুরুটা হলো বসুন্ধরা কিংসের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে।
