‘নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে’

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৫৪ পিএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিগত তিনটি নির্বাচন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। কাজেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে নামেই ডাকা হোক না কেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের বিকল্প নেই। তাই নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন: কার্যকর ও টেকসই সংস্কার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। জাতীয় রাষ্ট্রচিন্তা পরিষদ (এনসিপিটি) এ সেমিনারটি আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম। বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সেক্রেটারি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিনাত আরা নাজনীন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাস করে ফেলেছিল। ছাত্র-জনতার এই বিপ্লবে রক্তের নদী বইয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর ফ্যাসিস্ট নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে এ পরিবর্তন করতে হবে।

এ সময় অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিনাত আরা নাজনীন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। স্বৈরাচারী আওয়ামী আমলে আমি নিজেও ভোট দিতে গিয়ে দেখেছি আমার ভোট হয়ে গেছে। অর্থাৎ কোনো মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেনি। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর আমরা আশাবাদী হতে শুরু করেছি। এখন হয়তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আমরা আশা করছি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে বলে সেমিনারে জানান নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. জিয়া হাসান।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেজবাহ সওদাগর, জিয়াউর রহমান আর্কাইভের সহসম্পাদক শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত