নানা কারণে পিছিয়ে আজ মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। ১০ দল নিয়ে পাঁচ ভেন্যুতে হবে এবারের আসর। যদিও এখনো মাঠ নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। নিজ নিজ হোম ভেন্যু প্রস্তুত করে তুলতে ক্লাবগুলোর অনীহার পাশাপাশি আরও কিছু কারণে মাঠ নিয়ে সম্ভাব্য বিপত্তিতে পড়তে পারে বাফুফে।
আজ প্রথম লেগের প্রথম রাউন্ডের তিনটি খেলা হবে ভিন্ন তিন মাঠে। বসুন্ধরা কিংস চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে নামবে নিজেদের ভেন্যু কিংস অ্যারেনায়। এই মাঠের মান নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। তবে মোহামেডানের অভিযোগ আছে, কিংসের সমর্থকদের নিয়ে। বিশেষ করে ২২ নভেম্বর চ্যালেঞ্জ লিগের ম্যাচ চলাবস্থায় মাঠে স্মোক ফ্লেয়ার ছুড়ে মারেন এক দল সমর্থক। তাতে খেলা বন্ধ রাখতে হয় প্রায় ১০ মিনিট। সেই ম্যাচে ৩-১-এ হারের মূল কারণ হিসেবে মোহামেডান সেই ঘটনাকে দায়ী করে চিঠি দিয়েছে এই মাঠে না খেলার। অথচ তাদের নিজেদের হোম ভেন্যুকেই এখনো প্রস্তুত করতে পারেনি মোহামেডান। এই মৌসুমে মোহামেডান ও আবাহনী কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামকে হোম ভেন্যু করেছে। সেখানে এখনো রয়েছে ক্রিকেটের দুটি উইকেট। আজ সেই মাঠে শহীদ জিয়া স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচ শেষে উইকেট সরিয়ে মাঠ ফুটবলের জন্য দ্রুত প্রস্তুত করা নিয়ে সংশয় আছে বাফুফের। নতুন ভেন্যু হিসেবে এবার যোগ করা হয়েছে গাজীপুর শহীদ বরকত স্টেডিয়ামকে। মাঠ যেমন-তেমন, এই স্টেডিয়ামের বড় সমস্যা প্রশাসনিক ভবন। অপরিসর এই ভবনে কোনোমতে দুটি ড্রেসিং রুম করা গেলেও নেই বাদ বাকি সুযোগ সুবিধা। এমনকি প্রেসবক্সও নেই এখানে। অথচ আজ এই মাঠে গতবারের রানার্সআপ মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের। মুন্সীগঞ্জ ভেন্যু নিয়েও আছে সমস্যা। সেখানে বাধ্যবাধকতা থাকায় ম্যাচ আয়োজন করতে হবে দর্শকশূন্য অবস্থায়।
মাঠ নিয়ে এই সমস্যাগুলো ভীষণভাবে ভাবাচ্ছে পেশাদার লিগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ইমরুল হাসানকে, ‘কুমিল্লায় আজকেও একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল আছে। অথচ এখানে ৩ ডিসেম্বর ফেডারেশন কাপের ম্যাচ আছে। ৬ ডিসেম্বর এই মাঠে মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান। এর আগে মাঠকে ফুটবল উপযোগী করা যাবে কি না, বুঝতে পারছি না। তাই আমরা বিকল্প চিন্তা করছি।’
ইমরুল আরও বলেন, ‘রাজশাহী স্টেডিয়ামটা খুব ভালো ছিল। সেখানকার স্থানীয় সংগঠকরাও খুব সক্রিয় ও আন্তরিক। চাইলেই বিমানযোগে দিনে গিয়ে ম্যাচ খেলে দিনে ঢাকা ফেরা যায়। অথচ ক্লাবগুলো রাজি হয় না সেখানে খেলতে। তারা এটা বোঝে না দিনের খেলা দিনে গিয়ে খেলে ফিরলে তাদের আবাসনের বড় একটা খরচ বেঁচে যায়।’
