ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন পরবর্তী মন্ত্রিসভা ও হোয়াইট হাউজের অন্তত ৯ জনকে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের হবু প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ গৃহায়নমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় আছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ট্রাম্পের মনোনয়ন পাওয়া নিউ ইয়র্কের রিপাবলিকান পার্টির নারী কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিক। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, একাধিক বোমা হামলার হুমকির তথ্য তাদের কাছে আছে। সেই সঙ্গে ভুয়া কল করেও হুমকিপ্রাপ্তদের বাড়িতে পুলিশকে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে।
এফবিআই জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত এবং বুধবার ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার মনোনীতদের বেশ কয়েকজনকে এই হুমকি দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, বোমা হামলা এবং সোয়াটিংয়ের এমন বেশ কয়েকটি হুমকির বিষয়ে তারা অবগত। হুমকিগুলোকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। এরই মধ্যে এসব ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। ট্রাম্পের অন্তর্বর্তী টিমের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ‘ট্রাম্পের হবু প্রশাসনের নেতাদের হুমকির এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বভাবসুলভ নয়। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের নিরাপত্তায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনো হুমকিতে আমরা পিছপা হব না। এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে রয়েছেন।’
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত স্টেফানিক বলেন, তিনি তার স্বামী-সন্তানকে নিয়ে ওয়াশিংটন থেকে নিউ ইয়র্কের সারাটোগা কাউন্টিতে যাওয়ার সময় এই হুমকির বিষয়ে জানতে পারেন। তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বুধবার সকালে তার বাসভবনে বোমা হামলার হুমকি এসেছে। তবে পুলিশ দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান স্টেফানিক। এক এক্স বার্তায় হুমকি পাওয়ার বিষয়টি জানান ট্রাম্পের মনোনীত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, পুলিশের এক কর্মকর্তা সকালে তার বাড়িতে এসেছিলেন। সে সময় তার সাত সন্তান বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। তারা তাকে পাইপ বোমা হামলার হুমকির তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রশাসক হিসেবে ট্রাম্পের মনোনয়ন পাওয়া লি জেলডিন তার বাড়িতে পাইপ বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনপন্থি বার্তা দিয়ে আমাকে এবং আমার পরিবারকে নিশানা করে একটি পাইপ বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’ তবে সে সময় তিনি ও তার পরিবার সে সময় বাসায় ছিলেন না বলেও জানান তিনি। এ ঘটনার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান জেলডিন।
আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য এবং উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক পদের কর্মকর্তা বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছেন তিনি। তবে তাদের মধ্যে একাধিকজনের এমন হুমকি পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে ট্রাম্প নিজেও গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় একাধিকবার হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন। গত ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার এক জনসভায় ২০ বছরের এক তরুণের গুলি থেকে অল্পের জন্য সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার ডান কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি।
এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের গলফ ক্লাবের কাছে একটি রাইফেল নিয়ে ঝোপে লুকিয়ে ছিল আততায়ী। অবশ্য সে গুলি চালানোর আগেই তাকে ধরে ফেলেন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা।
