কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারা কর্র্তৃপক্ষের ভুলে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার মামলায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া দুই আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। এখন তাদের ধরতে ফের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
আত্মগোপনে যাওয়া ওই দুজন হলো মো. সানাউল্লাহ ও আবদুর রহিম। সানাউল্লাহ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরবসু গ্রামের মনা বেপারির ছেলে এবং আবদুর রহিম নোয়াখালীর সুধারামের আন্ডারচর গ্রামের আবদুল গনির ছেলে। একই মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি মো. হারুন ও আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মাঝি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি আছে।
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটলেও গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানির পর তোলপাড় শুরু হয়। পালিয়ে যাওয়া দুই আসামির বিরুদ্ধে ফের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে লক্ষ্মীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত।
কুমিল্লা কারাগার সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানায় ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সানাউল্লাহ, রহিম, হারুন ও কাশেমের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ চার আসামির ফাঁসির আদেশ হয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকরের জন্য সানাউল্লাহ ও রহিমকে নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে। বাকি দুই আসামি হারুন ও কাশেমকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে আসামিপক্ষ খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করে। এতে আদালত চার আসামিকে খালাস দেয়।
তবে এ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেলাল আহমেদ উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই আসামিদের মুক্তির আদেশের বিরুদ্ধে আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেয়। এ আদেশের কপি উচ্চ আদালত থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ও দণ্ডাদেশ দেওয়া লক্ষ্মীপুরের ওই আদালতেও পাঠানো হয়।
এদিকে লক্ষ্মীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক গত ৬ নভেম্বর আসামিদের খালাসের আদেশ দেন। কিন্তু এ সময় উচ্চ আদালতের আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ ছিল।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ১২ নভেম্বর কারা কর্র্তৃপক্ষ আসামিদের মুক্তির ব্যাপারে আদালতের চূড়ান্ত খালাস আদেশটি পায়। ওইদিন কারাগারের ডেপুটি জেলার তৌহিদুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরের সংশ্লিষ্ট কোর্টের বেঞ্চ সহকারী জহুরুল আলমের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আসামিদের মুক্তির আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ অবস্থায় ওইদিনই সানাউল্লাহ ও রহিমকে কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ছাড়া পেয়েই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। তবে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার চিঠি কেন আমলে নেওয়া হয়নি, এর উত্তর মেলেনি কারাগারের কারও কাছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর আদালতের বেঞ্চ সহকারী জহুরুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবদুল্লাহিল আল-আমিন বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের আদালতের নির্দেশে দুই আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়। তারা ওই আদালত থেকে খালাস পেয়েছে। তাদের মুক্তির আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’
চট্টগ্রাম কারা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতান বলেন, ‘ঘটনাটি কারা কর্র্তৃপক্ষ অবগত আছে। এটি কার ভুল ছিল, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালত আবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আত্মগোপনে যাওয়া দুই আসামিকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
