ওল্ড ট্রাফোর্ড ছেড়ে লেস্টারে পাড়ি জমিয়েছেন রুড ফন নিস্টলরয়। চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সেড়ে শনিবার মাঠে বসে দেখেছেন তার নতুন ঠিকানা লেস্টার সিটির ম্যাচ। নতুন প্রধান কোচের সামনেই সৌদি রাজ পরিবারের মালিকানাধীন ক্লাবটি বিধ্বস্ত হয়েছে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে। ৩-১ গোলে পরাজয়েই ডাচ এই কোচের নতুন ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়েছে। সেই হারের পর নতুন করে ক্লাবকে ঢেলে সাজানোর প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। আর তাতে উঠে এসেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হামজা চৌধুরীর নামটিও।
ব্রেন্টফোর্ডের করা তিনটি গোলের মধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে লেস্টার রক্ষণভাগের দুর্বলতা, বিশেষ করে ডান প্রান্তে। ডিফেন্ডার জেমস জাস্টিন ও ওয়াউট ফেসের পারফরম্যান্স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের ব্যাপক সমালোচনা দেখা যায়। একজন সমর্থক লেখেন, ‘জেমস জাস্টিনকে আর সহ্য করা যাচ্ছে না। প্রতি সপ্তাহে একই ভুল! জানুয়ারিতে পুরো নতুন ডিফেন্স দরকার।’ অন্যজন যোগ করেন, ‘জাস্টিন ও ফেস একই পাশে খেলছে মানেই বিপর্যয়। এমন দুর্বল দুই ডিফেন্ডারকে একসঙ্গে খেলানোর কোনো মানে হয় না।’
ডান প্রান্তের দুর্বলতা সামলাতে রুড ফন নিস্টলরয়ের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। এই পজিশনে দলটির প্রথম পছন্দ রিকার্ডো পেরেইরা হাঁটুর ইনজুরিতে আছেন মাঠের বাইরে। চোট দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে কয়েক মাস। যেহেতু বিকল্প এই মুহূর্তে নেই, তাই সমর্থকরা হামজা চৌধুরীকে ডান-ব্যাক হিসেবে খেলানোর পরামর্শ দিয়েছেন ক্লাবটিকে। এক সমর্থক মন্তব্য করেছেন,‘হামজাই এখন এই জায়গায় সেরা বিকল্প। তাকে একাদশে জায়গা দেওয়া উচিত।’
হামজা অনেকদিন ধরেই লেস্টারসিটিতে খেললেও দলটির শুরুর একাদশে তাকে সচরাচর দেখা যায় না। এ কারণে সমর্থকরাও ক্ষুব্ধ হন মাঝেমধ্যেই। তবে তাকে একাদশে না নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণও আছে। সেগুলো হলো;-
ট্যাকটিক্যাল সমস্যা: হামজা চৌধুরী সাধারণত মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন, কিন্তু তার খেলার ধরন কিছুটা ডিফেনসিভ। কোচেরা হয়তো আরও আক্রমণাত্মক বা সৃজনশীল মিডফিল্ডারের খোঁজে থাকেন যারা বল তৈরি করতে এবং আক্রমণে অংশ নিতে পারেন। হামজা এই দিক থেকে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেন না, যা কোচের কৌশলগত পরিকল্পনায় বাধা হতে পারে।
প্রতিযোগিতা: লেস্টারের মিডফিল্ডে বেশ কিছু শক্তিশালী খেলোয়াড় রয়েছেন, যেমন ইউরি টিয়েলমেনস, নেমেঝা মাদুক, এবং উইলফ্রিড এনডিডি। এসব খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা হামজার জন্য কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যদি কোচ আরও আক্রমণাত্মক বা সৃজনশীল খেলোয়াড়কে পছন্দ করেন।
ফর্ম এবং ধারাবাহিকতা: হামজা চৌধুরীর পারফরম্যান্সের বিষয়ে ধারাবাহিকতা কিছুটা সমস্যা হতে পারে। কিছু সময় তাকে ভালো পারফর্ম করতে দেখা গেলেও, কিছু ম্যাচে তার ইনভলভমেন্ট কম হতে পারে। নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য ধারাবাহিক পারফরম্যান্স খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা: লেস্টার সিটির কোচেরা হয়তো হামজাকে সাবসিটি হিসেবে ব্যবহার করার পক্ষে থাকতে পারেন, বিশেষ করে যখন মিডফিল্ডে রক্ষণাত্মক শক্তি প্রয়োজন হয় বা খেলা শেষের দিকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োজনে তার ব্যবহার করা হয়।
তবে, হামজা চৌধুরীকে যদি ডান ব্যাক বা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারে ব্যবহার করা হয়, তেমন পরিস্থিতিতে তার সুযোগ আরও বাড়তে পারে, সম্প্রতি এই পরামর্শটাই দিয়েছেন লেস্টারসিটির সমর্থকরা। আর সেক্ষেত্রে তার কপাল খুলছে রিকার্ডোর পেরেইরার চোটে। বিশেষ করে ডান ব্যাক পজিশনে। পেরেইরা লেস্টার সিটির একদম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন, যিনি ডান ব্যাক থেকে আক্রমণাত্মক খেলায় অংশ নেন এবং দলের পক্ষে বেশ কিছু গোল বা অ্যাসিস্টও তৈরি করেন। তার ইনজুরি লেস্টারের ডান পাশে বড় শূন্যস্থান তৈরি করেছে।
এখন, লেস্টার সিটির কাছে ডান ব্যাকের বিকল্প হিসেবে খুব বেশি অপশন নেই। যদি সমর্থকদের পরামর্শ নতুন কোচ নিস্টলরয়ের কানে পৌঁছায় তাহলে কোচ হয়তো হামজাকে এই পজিশনে খেলানোর জন্য বিবেচনা করতে পারেন। কারণ হামজার ডিফেনসিভ দক্ষতা এবং মাঠে সাহসী প্রতিক্রিয়া তাকে এই ভূমিকার জন্য উপযুক্ত করতে পারে। যদিও হামজা মূলত মিডফিল্ডার, কিন্তু তিনি যদি ডান ব্যাক হিসেবে খেলেন, তখন তার রক্ষণাত্মক খেলা দলের জন্য উপকারি হতে পারে। তাছাড়া, হামজার শারীরিক গঠন ও গতিও তাকে এই পজিশনে কার্যকরী করে তুলতে পারে।
তবে, হামজার সুযোগ পাওয়ার কারণ শুধুমাত্র পেরেইরার ইনজুরি নয়, বরং কোচের কৌশলগত প্রয়োজনে তাকে দলে রাখাও হতে পারে। যদি হামজা ডান ব্যাক পজিশনে সফল হন, তবে এটি তার ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে, এবং সেক্ষেত্রে লেস্টার সিটির একাদশে তার জায়গা শক্তিশালী হতে পারে।
লন্ডনে আর্সেনালের গোলবন্যা
পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় ক্লুইভার্ট
অ্যানফিল্ডে আজ দুই বিপ্লবীর মহারণ
শেষ বেলায় কিংস্টনের আকাশের হাসিতে সাদমানের ফিফটি