আওয়ামী দোসরদের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না : শফিকুর

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৬ এএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসররা এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করতে উসকানি দিচ্ছে। তবে সেই ফাঁদে কোনোভাবেই পা দেওয়া যাবে না। গতকাল রবিবার সকালে ইস্টার্ন জুট মিলস শ্রমিক ময়দানে খুলনার খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক তা ব্যর্থ করে দিতে হবে। বাংলাদেশকে লুট করেছিল একটা পরিবার, একটা গোষ্ঠী। এরা পরিবারকে দেখেছে আগে, এরপর দেখেছে গোষ্ঠীকে, এরপর দেখেছে দলকে, তারপর জুলুম চাপিয়ে দিয়েছিল জনগণের ঘাড়ে। এরা ছিল হিংসুক, এরা ছিল সংকীর্ণ মনা, এরা ছিল বেদরদি, এরা ছিল বেপরোয়া। এরা না আল্লাহকে ভয় করেছে, না মানুষকে সমীহ করেছে। এরা মানুষকে মানুষ মনে করেনি। এরা মানুষের ওপর তা-ব চালিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের দুটি দেশপ্রেমিক সংস্থাকে ধ্বংস করেছে। প্রথমে তারা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। এরপর জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দিয়ে ও কারাগারে রেখে তিলে তিলে হত্যা করেছে। কিন্তু তাদের সে অত্যাচার-নির্যাতনের জবাব এ দেশের শান্তিকামী ছাত্র-জনতা জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দিয়ে দিয়েছে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে কারাগার বানিয়েছিল। তাদের মতের ন্যূনতম বাইরে গেলে সাধারণ জনগণকে খুন, গুম, নির্যাতন ও জেল-জুলুম দেওয়া হতো। এ দেশ কারও একার নয়, দেশ সবার। দেশ এখনো ১৫ বছরের জঞ্জালমুক্ত হয়নি। তাই সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মধ্যদিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।

জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার সফল আন্দোলনকে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, তারা দায়িত্বশীলতার মধ্যে আন্দোলন করেছে। হাজারো উসকানির মধ্যেও তারা মাথা গরম করেনি। তাদের স্লোগান ছিল রক্ত গরম, মাথা ঠান্ডা। তার প্রমাণ তারা দিয়েছে। রক্তের বিনিময়ে তারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছে।

তিনি বলেন, মর্যাদাশীল দেশ গড়ার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরনির্ভরশীল নয়, কৃষি ও শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ গড়া প্রয়োজন। প্রভু নয়, বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র চাই। কোনো আগ্রাসী হাত আমরা দেখতে চাই না।

এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটিতে মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি শামসুন নাহারের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

ফরিদপুর থেকে ফেরার পথে নড়াইল শহর-সংলগ্ন মালিবাগ মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা করেন জামায়াতের আমির। সেখানে তিনি বলেন, যারা অতীতে দেশের ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ওয়াদা করেছিল। দিন শেষে তাদেরই ভাগ্য বদল হয়েছে। জাতির সেবক হওয়ার কথা বলে তারা মালিক হয়ে বসে আছে। জাতির সম্পদ চুরি করে তাদের পকেটে ঢুকিয়েছে। সেই সম্পদ দেশে না রেখে বিদেশে পাচার করেছে।

জামায়াতে ইসলামের আমির আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি সহনশীল মানবিক বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব বয়সী মানুষ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে আবাসস্থলে, কর্মস্থলে কাজ করতে পারে। নিরাপত্তার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারে। আমরা চাঁদাবাজি আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের যুবকদের হাত হবে কর্মীর হাত। এমন বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজি, দখলদারি হবে না। তিনি আগামী দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সবার সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।

এ সময় জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু, সদর উপজেলা আমির মাওলানা আবদুল্লাহ আল আমিন, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আবদুস সামাদসহ জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি লোহাগড়া উপজেলা শহরে আরও একটি পথসভায় বক্তব্য দেন। কেন্দ্রীয় আমির খুলনা থেকে সড়ক পথে নড়াইল হয়ে ফরিদপুর জেলায় জামায়াতের একটি কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন।

পরে বিকেল ৩টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতাকে জুডিশিয়াল ক্যুর মাধ্যমে খুন করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুরের দুই সন্তান তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে লগি-বৈঠা দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে এবং ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন চৌকস ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। আগামীতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিচার করা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশকে ন্যায়বিচার ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এজন্য দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম করার জন্য নেতাকর্মীদের জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামী শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে তৈরি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত