আক্রান্ত আগরতলা হাইকমিশন

সহকারী হাইকমিশনে ভাঙচুর ছেঁড়া হয়েছে বাংলাদেশের পতাকা  পূর্বপরিকল্পিত মনে করে বাংলাদেশ  করিমগঞ্জে বাধায় জকিগঞ্জে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ  ৩ সীমান্তে ভারতীয়দের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:১১ এএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা হয়েছে। হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের সমর্থকরা এ হামলা চালান। এ সময় ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের কাছে আসা ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে বাংলাদেশের পতাকা নামিয়ে ফেলার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পোড়া পতাকার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ভিডিওগুলো তারাও দেখেছেন এবং তা ঘটনাস্থলেরই।

হামলার এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেখানে নানা ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিশনের প্রধান ফটক ভেঙে প্রাঙ্গণে আগ্রাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।

জানা গেছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির সভা ছিল আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সামনে। সভা শেষে সংগঠনের ছয়জনের একটি প্রতিনিধিদল হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে যায় স্মারকলিপি জমা দিতে। এ সময় বাইরে থাকা কিছু যুবক হঠাৎ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। পরে হাইকমিশন কার্যালয়ের কিছু সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।

এ বিষয়ে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির কার্যকরী সদস্য বিকে রয় বলেন, স্মারকলিপি দেওয়ার সময় বাইরে কী ঘটনা ঘটেছে, তা তারা দেখেননি এবং তারা স্মারকলিপি দিয়ে আসার পরও কাউকে অফিসের ভেতরে দেখতে পাননি।

ঘটনার খবর পেয়ে ত্রিপুরা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের অফিসটি ঘুরে দেখেন এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। তবে এ বিষয়ে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।

হঠাৎ এ হামলার পর মিশনের সদস্যদের ‘নিরাপত্তাহীনতার’ মধ্যে থাকার কথা তুলে ধরেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ নিয়ে তাদের সামনেই ‘পরিকল্পিতভাবে’ মিশনের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা সহকারী হাইকমিশনের ভেতরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির সমর্থকদের হামলার ঘটনা বাংলাদেশ সরকারকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। সেখানে নানা ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিশনের প্রধান ফটক ভেঙে প্রাঙ্গণে আগ্রাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে আজ (গতকাল) সোমবার ভোরে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির বিক্ষোভকারীদের একটি বড় দলের হিংসাত্মক বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাপ্ত ঘটনাপ্রবাহ চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে, বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রধান ফটক ভেঙে প্রাঙ্গণে আগ্রাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে তারা পতাকার খুঁটি ভাঙচুর করেন, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেন এবং সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে সম্পত্তির ক্ষতি করেন। পরিতাপের বিষয়, প্রাঙ্গণ রক্ষার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ছিলেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সহকারী হাইকমিশনের সব সদস্য প্রচ- নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলতে চায়, বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক মিশনের ওপর এই জঘন্য হামলা এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অপবিত্রতা একটি নৈমিত্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। গত ২৮ নভেম্বর কলকাতায়ও একই ধরনের হিংসাত্মক বিক্ষোভ হয়েছে। আগরতলায় এই বিশেষ কাজটি কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের লঙ্ঘন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কূটনৈতিক মিশনগুলোকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করা স্বাগতিক দেশের সরকারের দায়িত্ব। তাই বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে এ ঘটনাটি মোকাবিলায় অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ, কূটনীতিক ও অ-কূটনৈতিক সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা জোরদার করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

ভারতের দুঃখ প্রকাশ : ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ‘গভীরভাবে দুঃখজনক’ বলে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক ও কনস্যুলার ভবনকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের ভবনে আজকের অনুপ্রবেশের ঘটনা গভীরভাবে দুঃখজনক। কোনো অবস্থাতেই কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়।’

বাংলাদেশের হাইকমিশন ও তাদের ডেপুটি/সহকারী হাইকমিশনগুলোর জন্য ভারত সরকার নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের কোচবিহারেও। সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায় সনাতনী হিন্দু মঞ্চ। সংগঠনটির সদস্যরা পাশের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চ্যাংড়াবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিলও করে। এই কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ছিল সীমান্ত এলাকায়।

এদিকে বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তেও। সেখানে সমাবেশ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে। সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এটি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ দেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে মশাল মিছিল : ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মশাল মিছিল করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ৮টায় টিএসসিতে এ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। মশাল মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন থেকে শুরু হয়ে, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, হলপাড়া, মুহসীন হল, ভিসি চত্বর হয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। এখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার বিশে^র ইতিহাসে আজকে একটি নগ্ন ঘটনার জন্ম দিল। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কোনো দেশের জনগণ অন্য কোনো দেশের দূতাবাসে আক্রমণ, হামলা তো দূরের কথা, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন না। আজকে এই উগ্র বিজেপি সরকারের নেতাকর্মীরা, ইসকনের এই উগ্র সন্ত্রাসীরা, জঙ্গিরা, আরএসএসের সন্ত্রাসীরা দূতাবাসে হামলা করে প্রমাণ করে দিল যে তারা সভ্য জাতি কি না। তিনি ভারতের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আজকে (গতকাল) ভারতে যে ঘটনা ঘটেছে, এটি কি আপনাদের সভ্যতা-ভদ্রতার পরিচয় প্রকাশ করে কি না। যদি আপনারা সমর্থন করেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষও সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।

জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ : আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট জানান, সিলেটের জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। ভারতের করিমগঞ্জ (কিছুদিন আগে নাম পরিবর্তন করে হয়েছে শ্রীভূমি) সনাতনী ঐক্য মঞ্চ নামের সংগঠনের বিক্ষোভের কারণে এই কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে ভারতের শ্রীভূমি শুল্ক স্টেশন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন সনাতনী ঐক্য মঞ্চ সংগঠনের সদস্যরা। পরে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা।

জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন সূত্র জানায়, সকালে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের শ্রীভূমি থেকে ৬ টন কমলা বাংলাদেশে আমদানি হয়। পরে সেখানকার বিক্ষোভকারীরা আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। বাংলাদেশি আমদানি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের এলসি করা মালপত্রের গাড়ি ভারতের শ্রীভূমি শুল্ক স্টেশন থেকে ফেরত গেছে। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন থেকে ভারতের শ্রীভূমি শুল্ক স্টেশনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও সেখানকার কর্মকর্তারা কল রিসিভ করেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তা।

জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভারতের শ্রীভূমি শুল্ক স্টেশনে সেখানকার বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ করে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এলসি করা মালপত্রের গাড়ি ফেরত পাঠিয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার : ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনার পর ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নূরে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিসি মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গুলশান বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগও নিরাপত্তায় কাজ করছে। ওই এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চৌকিও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো কিছু আশঙ্কা করছি না। তবে আগরতলায় ওই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ‘হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি’। তারা কার্যালয়ের সামনে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এতে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছে বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সমীর দাস নামে এক বিক্ষোভকারী ভারতীয় গণমাধ্যমে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তা ছাড়া, বিনাকারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের সনাতনী ধর্ম গুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ নেওয়ার প্রস্তাব নাকচ : বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ নিতে দেশটি যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা নাকচ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) কোম্পানি সামিট কমিউনিকেশন্স ও ফাইবার অ্যাট হোম এবং ভারতের টেলিকম অপারেটর ভারতীয় এয়ারটেল সম্মিলিতভাবে এই ব্যান্ডউইথ অবকাঠামো স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল।

ভারতী এয়ারটেল এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠায়। পরে তা বিটিআরসিকে পাঠানো হয়েছিল যাচাই করতে। সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন না হলে এতদিনে হয়তো ট্রানজিটের অনুমোদন পেয়ে যেত ভারত।

পরিকল্পনা ছিল, সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোম আখাউড়া সীমান্তে টেরেস্ট্রিয়াল কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন (টিসিএলএস) স্থাপন করবে। এই টিসিএলএস থেকে ফাইবারের মাধ্যমে কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনে সংযোগ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সেবা সিঙ্গাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। আর সীমান্তের টিসিএলএস থেকে ভারতী এয়ারটেল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা দেবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ : আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা, ফেনী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রাত ৮টার দিকে নগরের ষোলশহর স্টেশনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

রংপুরে যৌথভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি। রাত ৮টার দিকে নগরের প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আবার প্রেস ক্লাবে ফিরে আসে। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। এ ছাড়া রাত ৯টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

খুলনা শহরে রাত সাড়ে ৯টায় নগরের শামসুর রহমান রোড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মিছিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

ফেনী শহরে রাতে মিছিল বের করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী রাতে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত