মাগুরার শ্রীপুরে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দ্বারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজের সামনে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রদীপ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দ্বারিয়াপুর এলাকার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে দ্বারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অমরেন্দ্রনাথ বাছাড়ের অপসারণ ও পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার (গতকাল) জিল্লুর রহমান বিশ্বাসের নেতৃত্বে মিছিল ও কলেজ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে একই দিনে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রদীপের নেতৃত্বে কলেজের সামনের রাস্তায় যুবদলের কর্মী সমাবেশ আহ্বান করা হয়।
গতকাল সকাল থেকে কলেজের সামনে রফিকুল ইসলাম প্রদীপের সমর্থকরা আলোচনা সভা করছিলেন। এ সময় জিল্লুর রহমানের সমর্থকরা সাচিলাপুর বাজার থেকে মিছিল নিয়ে কলেজের দিকে গেলে দুপক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষে ফরহাদ হোসেন (৩০), হাবিব মোল্যা (৪৫), শুকুর মাহমুদ (৩৬), কাইয়ুম হোসেন (৪০), আবদুর রশিদ (৫৫), আশিকুর রহমানসহ (৩২) ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কাইয়ুমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত অন্যরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ বিষয়ে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রদীপ বলেন, ‘সামনে উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হবে বলে দুদিন আগেই মাইকিং করে দ্বারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজের সামনে যুবদলের কর্মী সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। আমরা সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। হঠাৎ জিল্লুর রহমান বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।’
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দ্বারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অমরেন্দ্রনাথ বাছাড়ের অপসারণ ও পদত্যাগের দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে কলেজের দিকে এগিয়ে গেলে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রদীপের লোকজন আমাদের মিছিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।’
