রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদনের শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার শুনানির নির্ধারিত তারিখে তার (চিন্ময়) পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামিন শুনানির তারিখ পেছানো হয়েছে। নগর-পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অবকাশকালীন আদালতের বিচারক চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানির নির্ধারিত তারিখ ছিল গতকাল।
এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানিতে অংশ নিতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ চিন্ময়ের পক্ষের ৭০ জন আইনজীবীকে পুলিশের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে করা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে এর আগে অভিযোগ করা হয়েছিল সনাতনী জাগরণ জোটের পক্ষ থেকে। গত রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন অভিযোগ করেন জোটের অন্যতম সংগঠক স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি পেছানোর বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু শুনানিতে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। যার কারণে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী বছরের ২ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করে। জামিন শুনানিতে অংশ নিতে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবীকে ভয় দেখানো কিংবা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দেন এই আইনজীবী নেতা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী শুভাশিস শর্মার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
চিন্ময়ের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের মূল ফটক ও আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর হওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়।
