প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় রিক্তা বানু

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২২ এএম

২০২৪ সালের বিশ্বের সবচেয়ে অনুপ্রেরণা জাগানো ও প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের একমাত্র নারী রিক্তা আখতার বানু। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। বিবিসি পাঁচটি ক্যাটাগরি থেকে বাছাই করে এই তালিকা তৈরি করেছে। সেগুলো হলো জলবায়ুকর্মী, সংস্কৃতি ও শিক্ষা, বিনোদন ও ক্রীড়া, রাজনীতি ও অ্যাডভোকেসি এবং বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি। এর মধ্যে রিক্তা আক্তার বানু তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ থেকে।

বিবিসির বিশ্বে ২০২৪ সালে প্রভাবশালী নারীর তালিকায় রয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাদিয়া মুরাদ, মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস, ধর্ষণ থেকে বেঁচে যাওয়া গিসেল পেলিকট, অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন, অলিম্পিক অ্যাথলেট রেবেকা আন্দ্রে ও অ্যালিসন ফেলিক্স, গায়ক রায়ে। আরও রয়েছেন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট ট্রেসি এমিন, জলবায়ু প্রচারক আডেনিকে ওলাডোসু, লেখিকা ক্রিস্টিনা রিভেরার মতো নারীরা। গাজা, লেবানন, ইউক্রেন ও সুদানের প্রাণঘাতী সংঘাত এবং মানবিক সংকট থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড সংখ্যক নির্বাচন পরবর্তী সামাজিক বিভাজনের সাক্ষী হওয়া পর্যন্ত চলতি বছর নারীরা চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন এই তালিকায় স্থান পাওয়া নারীরা।

এই ১০০ নারীর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের এক নারী। কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস নার্স রিক্তা আখতার বানুর। সেখানে প্রতিবন্ধী শিশুকে অভিশাপ হিসেবে দেখা হয়। তার নিজের মেয়ে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। মেয়েকে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয় কর্র্তৃপক্ষ। এরপর নিজের জমি বিক্রি করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। স্কুলটির নাম রিক্তা আখতার বানু-লুৎফা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। স্কুলটি প্রতিবন্ধিতার প্রতি সমাজের মনোভাব পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্কুলটিতে বর্তমানে তিনশ শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলটি শুরুতে শুধুমাত্র শেখার অক্ষমতা আছে এমন শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হলেও, এখন বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুরাও প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সেবা পাচ্ছে।

বিবিসি বলছে, পরিবর্তিত বিশ্ব প্রতিনিয়তই নারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তালিকায় স্থান পাওয়া এই নারীরা তাদের দৃঢ়তার মাধ্যমে পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছেন। এই নারীদের অনেকেই জলবায়ুর জরুরি অবস্থার প্রভাব নিয়েও সচেতন। তাই এখানে সব অগ্রদূতদের তুলে ধরা হয়েছে যারা তাদের সম্প্রদায়কে এর প্রভাব মোকাবিলা করতে সহায়তা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত