প্রেমিকের হাতে খুন হওয়া শাহিদা ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৪ এএম

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এক্সপ্রেসওয়েতে গুলিতে নিহত শাহিদা আক্তার (২২) নামের ওই তরুণী আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এজন্য শাহিদা তার প্রেমিক তৌহিদ শেখকে (২৮) বিয়ে করতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই প্রেমিক তৌহিদ শেখ পরিকল্পিতভাবে শাহিদাকে মাওয়ায় নিয়ে আসেন। এরপর থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়ে তৌহিদ নিজেই গুলি করে হত্যা করেন শাহিদাকে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জে নিজস্ব কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। পুলিশ সুপার বলেন, শাহিদাকে গুলি করে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তৌহিদ শেখ। আমরা তাকে (তৌহিদকে) হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তৌহিদ আমাদের জানিয়েছেন, তার সঙ্গে শাহিদার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কও ছিল। শাহিদা তৌহিদকে বলেছিলেন, তিনি আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে তথ্য জানার পর সম্প্রতি শাহিদাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর মধ্যে তৌহিদ তার পরিবারের পছন্দের অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি শাহিদা বুঝতে পেরে তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তৌহিদ শেখ শাহিদাকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তৌহিদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে শাহিদাকে মুঠোফোনে ওয়ারীর বাড়ি থেকে মাওয়ায় ইলিশ খাওয়ার কথা বলে ডেকে আনেন তৌহিদ। শাহিদাকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া শেষে রাতভর মাওয়া এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। শনিবার ভোরে শ্রীনগর দোগাছি এলাকার এক্সপ্রেসওয়েতে শাহিদাকে নিয়ে আসেন তৌহিদ। সেখানেই তার সঙ্গে থাকা ওয়ারী থানা থেকে লুট করা পিস্তল দিয়ে শাহিদাকে গুলি করে হত্যা করেন।

হত্যার পর তৌহিদ দোগাছি এলাকা থেকে ঢাকায় পালিয়ে যান। আর পিস্তলটি কেরানীগঞ্জের বটতলী বেইলি সেতুর নিচে ফেলে যান।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, তৌহিদ তার পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় সোমবার রাতে ঢাকা থেকে লঞ্চে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গভীর তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরবর্তী সময়ে ভোলার ইলিশাঘাট এলাকায় লঞ্চের কেবিনের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইশতিয়াক রাসেল জানান, গতকাল দুপুরে তৌহিদকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় হত্যাকা-ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, নিহত শাহিদা ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার বেগুনবাড়ির বরিবয়ান এলাকার প্রয়াত আবদুল মোতালেবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ওয়ারী থানার যোগীনগর এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। গ্রেপ্তার প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারীর বনগ্রাম এলাকার প্রয়াত শফিক শাহর ছেলে।

গত শনিবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সমসপুর এলাকার দোগাছি সার্ভিস সড়ক থেকে শাহিদা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পাশে কয়েকটি গুলির খোসা পড়ে ছিল। সেদিন দুপুর ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে শ্রীনগর থানায় নিয়ে যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেখান থেকে শাহিদার মুঠোফোনে থাকা নম্বরের মাধ্যমে তার মায়ের নম্বর পাওয়া যায়। বিকেলে জরিনা বেগম এসে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় শনিবার রাত ১২টার পর নিহত তরুণীর মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। পরে রবিবার  সকালে ওই মামলায় একমাত্র নাম উল্লেখ করে আসমি করা হয় তৌহিদকে। সেদিনই ময়নাতদন্ত শেষে শাহিদার লাশ ময়মনসিংহের বরিবয়ান গ্রামে দাফন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত