কুমিল্লা নগরীর ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মো. সজীব (২০) নামের এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর অশোকতলা রেলগেটসংলগ্ন লন্ডন হাউজের পাশের বাসা থেকে তাকে কে বা কারা ডেকে নিয়ে যায়। কিছু সময় পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যায় বাসার সামনে। সেখান থেকে উদ্ধার করে নগরীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। গতকাল বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সজীবের।
এদিকে সজীবের হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত, সেটি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানী লোকজনের ভাষ্য, নয়ন ও চয়ন নামের দুই সন্ত্রাসী এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তারা চাঁদার দাবিতে আগে থেকেই সজীবের পরিবারকে চাপ দিয়ে আসছিল। গতকাল দুপুরে হাসপাতাল থেকে সজীবের লাশ অশোকতলা বাসায় আনার পর নয়ন ও চয়নের লোকজন এসে হুমকি-ধমকি দিয়েছে। সজীবের লাশ দ্রুত গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চাপও দেয়। এ ছাড়া এ ঘটনায় মামলা করলে সজীবের অন্য ভাইদেরও হত্যার হুমকি দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সজীবের গ্রামের বাড়ি দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আলিম শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি নগরীর একটি শপিং মলে চাকরি করতেন। সে কারণেই অশোক অশোকতলার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাসার পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সজীবের মামাতো ভাই রাকিব বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে পেটায় ও ছুরিকাঘাত করে। পরে মৃত ভেবে রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে যায়। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে রেললাইনসংলগ্ন বাসিন্দাদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসী নয়ন ও তার ভাই চয়নসহ এদের সহযোগীরা এলাকার চিন্তিত মাদক কারবারি। তাদের নামে একাধিক মামলাও রয়েছে। তারা সজীবের পরিবারকে চাঁদার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছিল। সজীবের লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে এলে নয়ন-চয়নের সহযোগীরা দ্রুত লাশ নিয়ে অশোকতলা থেকে গ্রামে চলে যেতে বলে। এ ছাড়া কোনো ধরনের মামলা করলে সজীবের ভাইদেরও সর্বনাশ করা হবে বলে হুমকি দেয়।
এসব বিষয়ে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সজীবের পরিবারের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার বড় বোন সনিয়া আক্তার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মহানগরীর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সজীব নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যু দুঃখজনক।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
