মামলায় নাম থাকলেই গ্রেপ্তার নয় : আইজিপি

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৪৮ এএম

গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঘিরে হওয়া মামলায় নাম থাকলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

সারা দেশের বেশ কিছু মিথ্যা মামলা ও হয়রানির বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেক মামলা হয়েছে। অনেক নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। সেটা নিয়ে অনেকে বাণিজ্য করছে। তবে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা প্রতারিত হবেন না। নিরীহ মানুষদের কোনো ভয় নেই। মামলায় নাম থাকলেই কেউ গ্রেপ্তার হবে না। যাচাই-বাছাই করে, যুক্তিযুক্ত মনে হলেই গ্রেপ্তারের জন্য যাবে পুলিশ।

তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে নতুন করে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ে পুলিশকে প্রস্তুত করা হবে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে আইজিপি বলেন, ‘কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। ছাত্র-জনতার এই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সব পরিবারের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।’ এই সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, ‘আমি আপনাকে ব্ল্যাংক চেক দিয়ে বলতে পারি, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করার ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে। পুলিশ সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। সারা দেশে পুলিশ সদস্যরা অপরাধ নির্মূলে কাজ করছেন। কিছু সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। তবে সেটা ভালো কাজ করেই পুলিশকে জনগণের কাছে সেই আস্থা অর্জন করতে হবে।’

গণ-অভ্যুত্থানে অতি বল প্রয়োগ করা পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘পলাতক পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। যারা দেশের ভেতরে আছেন, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে। যারা দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরে আনা হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘২ লাখ ১৩ হাজার পুলিশের কতজন বিপক্ষে ছিলেন তা খুঁজে বের করা সত্যিই কঠিন। তবে এটা করবই। এটা করতেই হবে। পুলিশ বাহিনীর জন্যই করতে হবে। সমাজকে একটি সুষ্ঠু পরিবেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সদস্যদের সঠিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। জুলাই-আগস্টে পুলিশের কিছু সদস্য বাড়াবাড়ি করেছেন, আইনভঙ্গ করেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ৫ আগস্টের পর পুলিশ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

আইজিপি বলেন, রাজারবাগে যেসব পুলিশ সদস্য বিদ্রোহ করেছিলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী তাদের যেমন দাবি, তেমনি আমাদের প্রত্যেকের দাবি, পুলিশকে রাজনীতি থেকে রাজনৈতিক ব্যবহার থেকে মুক্ত করতে হবে। এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা, পরামর্শ সুপারিশ গেছে সংস্কার কমিশনের কাছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য পুলিশ বাহিনীকে যেন আর ব্যবহার করা না হয়।’

বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘এখন বাহিনীকে সক্রিয় ও সদস্যদের মধ্যে কাজের স্পৃহা তৈরি করা হচ্ছে। সামনের সপ্তাহ থেকে বিভাগে বিভাগে সফর করব। ফোর্সের সদস্যদের হতাশা, চাওয়া-পাওয়ার কথাগুলো জানতে চাই। কারণ তাদের মধ্যেও অনেক ক্ষোভ আছে। দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশি সাহায্য করার মতো পূর্ণ ক্ষমতা আমাদের আছে। এর আগে কেয়ারটেকার সরকারের আমলে তিনটা নির্বাচন হয়েছে। সেখানে দেখেছেন আমরা পারি। সেই পুলিশের অনেকে এখনো আছেন, কিছু পরিবর্তন হয়েছে, নতুনরা এসেছে। আমি মনে করি পুলিশ খুব ভালোভাবে সক্ষম। যেসব পুলিশ সদস্য আন্দোলনে মারা গেছেন তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। হত্যার ঘটনায় আইনের আশ্রয় পুলিশ নেবে কি না, আইনি আশ্রয় না নিলে পুলিশের মনোবলে ঘাটতি তৈরি হতে পারে কি না, জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, আইন তো সবার জন্যই সমান। হত্যাকা- বা যেকোনো অপরাধ। আইনের আওতায় আদালতের বিচারের আওতায় আসা উচিত। আমরা সেভাবেই করব। সেভাবেই হয়ে আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত