১০ দিন মিলছে না তিন সেবা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৫০ এএম

ভাইবোনের মধ্যে বণ্টন হওয়া পৈতৃক জমির অংশ বিক্রির উদ্দেশ্যে দুই মাস আগে ই-নামজারি আবেদন করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া গ্রামের সৈয়দ ইসকান্দর। প্রায় ১০ দিন আগে দাপ্তরিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ই-নামজারি খতিয়ানটি অনুমোদন দিতে পারছেন না উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার শারমীন। শুধু হাটহাজারীতে নয়, ভূমি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়নাধীন ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় তিনটি সেবা (ই-নামজারি সিস্টেম, ই-পর্চা সিস্টেম এবং ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেম) আপডেটের কারণে গত ২৬ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ওই সময় ভূমি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি সেবা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে গত ১ ডিসেম্বর সেবাগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সৈয়দ ইসকান্দরের মতো দেশের হাজারও সেবাগ্রহীতা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় প্রস্তুতকৃত ভূমিসেবা সংশ্লিষ্ট মনোনীত (দ্বিতীয় সংস্করণ) চারটি সফটওয়্যার (মিউটেশন সিস্টেম, ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেম, ডিজিটাল রেকর্ড ও ম্যাপ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, ভূমি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সিস্টেম) এবং নবসৃষ্ট একটি সফটওয়্যার (ল্যান্ড সার্ভিস গেটওয়ে) দেশব্যাপী প্রচলন ও ব্যবহারের প্রাথমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। কিন্তু ও সেগুলো পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। ফলে জমির নামজারি, পর্চা সিস্টেম ও খাজনা আদায় হচ্ছে না।

এই প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের মোবাইল ফোনে গতকাল বৃহস্পতিবার একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

হাটহাজারীর এসিল্যান্ড লুৎফুন নাহার শারমীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিন ভূমি সেবাসংক্রান্ত তিনটি সেবা (মিউটেশন, পর্চা সিস্টেম ও খাজনা আদায়) বন্ধ ছিল। গত ১ ডিসেম্বর থেকে ভূমি সেবাসংক্রান্ত পাঁচটি সফটওয়্যার পরীক্ষামূলক চালু হলেও নামজারি আবেদন মঞ্জুর করা যাচ্ছে না। সেবাপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক আবেদন আটকে আছে। মঞ্জুর করতে পারছি না। তবে আশা করা হচ্ছে শিগগির এই সংকট শেষ হবে।’

চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমদের একান্ত সচিব মো. আবু হারিস মিয়া বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ ডিসেম্বর থেকে ভূমি সেবাসংক্রান্ত তিনটি সেবার পাঁচটি সফটওয়্যার পরীক্ষামূলক চালু হয়েছে। এগুলো পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে সমস্যা মিটে যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত সেবাগ্রহীতাদের কিছুটা হলেও ভোগান্তি পোহাতে হবে।’

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী (৫ ডিসেম্বর), গত ৩০ দিনে ই-নামজারি আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ৮২৮টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৯টি। ৪৫ হাজার ৪৯৯টি নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। নামজারি মঞ্জুরের হার ৭২ শতাংশ। চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের বাসিন্দা মো. আনোয়ার। কিছুদিন পরেই তার দ্বিতীয় কন্যার বিয়ে হবে। এজন্য তিনি নিজের মালিকানাধীন ২ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। ক্রেতার সঙ্গে দরদামও ঠিক হয়ে গেছে। জমি নিবন্ধনের তারিখও নির্ধারণ হয়েছে। কিন্তু ওই জমির খাজনা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। সফটওয়্যার কার্যকর না থাকায় স্থানীয় তহশিল অফিস তার কাছ থেকে খাজনা আদায় করতে পারছে না।

তিনি বলেন, ‘সফটওয়্যার আপডেট হলেও সার্ভারে লগইন হচ্ছে না। ১০ দিন ধরে ভূমি

পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১ >

১০ দিন মিলছে না তিন সেবা

 

অফিসে আসা-যাওয়া করছি। খাজনা আদায় হচ্ছে না। তাই মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা জোগাড় করতে পারছি না।’

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা আলতাফ মিয়া বলেন, এক মাস আগে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকায় জমি কিনেছি। ই-নামজারির আবেদনও করেছি। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সেই আবেদনটি মঞ্জুর করতে পারছেন না এসিল্যান্ড। ভূমি সেবার সার্ভার নাকি ১০ দিন ধরে বন্ধ। প্রতিদিনই তহশিল অফিসে গিয়ে ফেরত আসছি। কষ্টের সীমা নেই।’

এদিকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমদ জানিয়েছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে অনলাইনে চালু করা হয়েছে ভূমি সেবা কার্যক্রম। এবার অনলাইনের এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নতুন সফটওয়্যার। এই যুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই মানুষ ঝামেলাহীন ভাবে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, হোল্ডিং নম্বর, খতিয়ানসহ ভূমিসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত