প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ন্যায়বিচারের সন্ধান একটি ক্ষণস্থায়ী প্রচেষ্টা নয় বরং একটি আজীবন প্রতিশ্রুতি যা আমাদের বিচারিক মিশনের ভিত্তি তৈরি করে। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে ন্যায়বিচার যাতে বিলম্বিত না হয়।’
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড ইফিসিয়েন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম প্রমুখ।
১৯৭১ সালের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীন জাতির ভিত্তিস্থাপন করেছিল, বিজয়ের এই মাস ডিসেম্বর, তাদের অতুলনীয় সাহস এবং উৎসর্গের একটি শক্তিশালী অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে।’
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের দৃঢ় চেতনাকে স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব নিপীড়নকে উৎখাত এবং ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানবতা পুনরুদ্ধারের লড়াই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসের এই সংজ্ঞায়িত মুহূর্তগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ন্যায়বিচারের সন্ধান একটি ক্ষণস্থায়ী প্রচেষ্টা নয় বরং একটি আজীবন প্রতিশ্রুতি যা আমাদের বিচারিক মিশনের ভিত্তি তৈরি করে।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ন্যায়বিচার যাতে বিলম্বিত না হয়।’
প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে আইনি সহায়তায় বিচারিক কার্যক্রম আরও সহজ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অবশ্যই দক্ষতার পরিপূরক হতে হবে। আমরা বিলম্ব এবং পদ্ধতিগত অদক্ষতা দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন, যা উদ্ভাবন, পরিশ্রম এবং দূরদর্শিতাকে একত্রিত করে।’
তিনি বলেন, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিকে একীভূত করার মাধ্যমে, বিলম্ব কমাতে, স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং বিচার প্রত্যাশীদের আরও নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানে আমরা বদ্ধ পরিকর এবং এক্ষেত্রে ইউএনডিপি অনুঘটক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০
শেখ হাসিনা দেশে আসবেন বিচারের মুখোমুখি হতে, অন্যথায় নয়
ভারত প্রতিশ্রুতি দিলেও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বাড়ছে: জামায়াত