নতুন চেহারায় পুরনো আয়োজনের শুরু

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:০৭ এএম

১৪ বছর আগে, এনসিএল টি২০ নামের একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০ ওভারের সংস্করণের ক্রিকেট নিয়মিত আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তারপর গত ১৪ বছরে, বাণিজ্য বিপণন আর সম্প্রচারের নৌকায় চেপে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটই হয়ে উঠেছে খেলাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক সংস্করণ। অলিম্পিকেও ক্রিকেট ফিরছে টি২০ সংস্করণেই। দেশে দেশে শুরু হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, বাংলাদেশেও ২০১২ সালে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক প্রতিযোগিতার বাইরে, ঘরোয়া ক্রিকেটের বর্ষপঞ্জিতে দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে একটা টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার অভাব থেকেই গেছে।

বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি, প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি, বঙ্গবন্ধু টি-২০; এমন নানান নামে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়েছে, তবে কোনোটিই একবারের বেশি মাঠে গড়ায়নি। সেই হতাশাকে দূর করে, নিয়মিত হওয়ার আশ্বাস নিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গেই আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে এনসিএল টি২০। তবে বাংলাদেশে যেটা হয়, তাড়াহুড়ো করে করতে গিয়ে গোটা আয়োজনটাই গড়াচ্ছে ভুল পথে!

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুটো মাঠে প্রতিদিন দুটো করে মোট চারটি ম্যাচ। দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু সকাল ৯-৩০ মিনিটে আর দ্বিতীয় ম্যাচ দুপুর ১টায়। গোটা বিশ্বেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো শুরু হয় সন্ধ্যার পর, যাতে অফিস ফেরতা লোক মাঠে এসে খেলা দেখে। টেলিভিশনের প্রাইম টাইম বিনোদনে যেন ক্রিকেট স্থান পায়। সেখানে সকাল ৯টা এবং ৯-৩০ মিনিটে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতাটা কার কোথায় কাজে লাগবে সেটা আয়োজকরাই ভালো বলতে পারবেন! একই মাঠে পরপর দুটো ম্যাচ, এমনটা কোথাও দেখা যায় না। ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি চলছে। সেখানেও অন্তত সকাল ১১.৩০ এর আগে কোনো ম্যাচ হচ্ছে না, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো হচ্ছে ফ্লাডলাইটে। আফগানিস্তানেরও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শাপগিজা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে শাপগিজা ক্রিকেট লিগেও এই ধরনের হাস্যকর কর্মকা- চোখে পড়ে না। সেখানেও খেলা হয় ফ্লাডলাইটে, কারণ টি-টোয়েন্টি খেলার ধরনটাই তাই। তার বদলে সাতসকালে টি-টোয়েন্টি এক নতুন আবিষ্কার।

টুর্নামেন্টের সূচিটা যে করেছে তার তারিফ করা উচিত। ডিসেম্বরের ১১ তারিখে শুরু, ২৪ তারিখে ফাইনাল। ১৩ দিনের এই সূচিতে ৩টা এমন দিন আছে যে দিনগুলোতে নিশ্চিতভাবেই অফিস বন্ধ, দুটো শুক্রবার ও বিজয় দিবস অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর। এই ৩ দিনই কোনো খেলা নেই! হয়তো আয়োজকরাই চাচ্ছেন না মাঠে দর্শক বেশি আসুক। অনেকেই বলছেন বিপিএলের প্রস্তুতি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো টাকা দিয়ে দল গড়েছে, তাদের খেলোয়াড়দের জন্য বিসিবি কেন নিজেরা পয়সা খরচ করে প্রস্তুতির সুযোগ করে দেবে সেই প্রশ্নেরও উত্তর নেই! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানানো তামিম ইকবালকে কেনই বা সুযোগ দেওয়া হলো এই আসরে খেলার জন্য সেই প্রশ্ন করাটাও অর্থহীন। তার চেয়ে বড় কথা, এই আসরে যারা খেলছেন তাদের বেশিরভাগই বিপিএলে দলই পাননি! তাদের জন্য এটা বিপিএলের প্রস্তুতি নয় বরং সান্ত¡না পুরস্কার।

তবুও মন্দের ভালো যে এ রকম একটি আয়োজন মাঠে গড়িয়েছে এবং ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের একটা চাওয়া পূরণ হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ছিল অধিনায়কদের নিয়ে প্রশ্নোত্তরপর্ব। সেখানে রংপুর বিভাগের অধিনায়ক আকবর আলি বললেন, ‘আমরা যারা এনসিএল খেলি, সেই ১২০ জনের মতো ক্রিকেটার সবাই এখানে খেলছে। সবাই খুব ভালো একটা এক্সপোজার পাবে, সবাই এক্সাইটেড। সবসময় আমরা এনসিএল বা বিসিএল (৪ দিনের) খেলে বিপিএলে ঢুকি, ফলে আমাদের প্রস্তুতির সময়টা একটু কম থাকে। তবে এবার যেহেতু আমরা এনসিএল টি২০ খেলে সঙ্গে সঙ্গে বিপিএলে ঢুকব, আমাদের প্রস্তুতিটা খুব ভালো থাকবে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটের ভুলে যাওয়া নাম সোহাগ গাজী, জাতীয় দল থেকে বহুদূরে ছিটকে যাওয়া জিয়াউর রহমান, ফরহাদ রেজারা যেমন খেলছেন, তেমনি সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জিতে আসা আজিজুল হাকিম তামিম এবং ইকবাল হোসেন ইমনকেও দেখা যাবে এই আসরে খেলতে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের পঞ্জিকায় নতুন একটি টুর্নামেন্টের সংযোজন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সাতসকালে শুরু করে, বিগত যৌবনাদের নিয়ে দল ভারী করে এখান থেকে প্রাপ্তি কী হতে পারে সেটা নিয়ে যথেষ্টই সন্দেহের অবকাশ আছে। আজ ঢাকা-সিলেট, ঢাকা মেট্রো-বরিশাল এই দুটো ম্যাচ আছে দিনের শুরুতে, দুপুরে মুখোমুখি হবে রংপুর-চট্টগ্রাম ও খুলনা-রাজশাহী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত