রহমতগঞ্জে থমকে গেল মোহামেডান

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৬ এএম

১০ জনের দল নিয়ে তিনদিন আগেই লিগ শিরোপাধারী বসুন্ধরা কিংসকে হারিয়েছিল মোহামেডান। কুমিল্লায় এ রকম জয়ের পর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ১০ জন নিয়েই হারের লজ্জা পেতে হয়েছে সাদা-কালোদের। রহমতগঞ্জের কাছে ফেডারেশন কাপের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে গেছে আলফাজ আহমেদের দল। কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ঢাকা আবাহনী ৩-০ গোলে হারিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে।

লিগের দুই ম্যাচ ও ফেডারেশন কাপ মিলিয়ে তিন ম্যাচেই জয় পেল পুরান ঢাকার দল রহমতগঞ্জ। ঢাকা আবাহনীও তাই। শতভাগ স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে জয়ের পথে হাঁটছে তারা। ফেডারেশন কাপের ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে এখন আবাহনী শীর্ষে। রহমতগঞ্জ দুইয়ে।

যদিও কুমিল্লায় ম্যাচের বেশিরভাগ সময় দাপট দেখিয়েছে মোহামেডান। রহমতগঞ্জ রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলার কারণে মাঠের নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগ ছিল মোহামেডানের কাছে। তবে ইমানুয়েল সানডে, আরনেস্ট বোয়েটাংরা সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি। রহমতগঞ্জের গোলকিপার মামুন আলিফ ছিলেন এই ম্যাচে দুর্দান্ত। তিন মিনিটের ব্যবধানে মোহামেডানের তিনটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন এই কিপার। ১৩ মিনিটে জিসানের ক্রসে বোয়েটাংয়ের হেড ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মামুন আলিফ। পরের মিনিটে মুজাফফরভের কর্নারে বোয়েটাংয়ের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরলে হতাশ হতে হয় মোহামেডানকে। এর পরেই সানডের ক্রসে বোয়েটাংয়ের হেড মামুন আলিফ আয়ত্তে নেন। ১৬ মিনিটে রহমতগঞ্জ প্রতি আক্রমণ থেকে গোলের চেষ্টা করেছিল। তবে স্যামুয়েল বোয়েটাংয়ের শট মোহামেডানের এক ডিফেন্ডার ব্লক করেন। যোগ করা সময়ে বোয়েটাংয়ের হেড মামুন আয়ত্তে নিলে প্রথমার্ধ শেষ হয়ে গোলশূন্যভাবে।

বিরতির পরও মোহামেডানের দাপট ছিল। তবে রক্ষণ সামলে রহমতগঞ্জও ধীরে ধীরে আক্রমণে উঠেছে। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে মুজাফফরভের বুলেট গতির শট ক্রস বারের একটু ওপর দিয়ে গেলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় রহমতগঞ্জ। ছয় মিনিট পর ইমানুয়েল সানডের ভলিতে গোলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে জয়সূচক গোলের দেখা পান রহমতগঞ্জের বদলি ফরোয়ার্ড রাজন হাওলাদার। মোস্তফা কাহারবার পাস ধরে বাঁদিক দিয়ে বক্সে ঢুকে রাজন কাটব্যাক করেছিলেন জটলায়। মোহামেডানের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে সেটি আবার ফিরে আসে রাজনের কাছে। মোহামেডানের ডিফেন্ডাররা তখন হাত তুলে অফসাইডের দাবি জানাতে থাকেন। তবে রাজন বল নিয়ে একটু পেছনে এসে ডানপায়ের কোনাকুনি শটে মোহামেডান গোলকিপার সাকিব আল হাসানকে পরাস্ত করে দূরের পোস্টে বল জমা করেন। এর দুই মিনিট পর মোহামেডান ১০ জনের দলে পরিণত হয় দলের মিডফিল্ডার শান্ত মেজাজ হারানোয়। মোস্তফা কাহারবার সঙ্গে বল দখলের লড়াই চালাচ্ছিলেন তিনি। একটা সময় মোস্তফাকে ফাউল করেন শান্ত। রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজান। সে সময় মোস্তফা উঠে তেড়ে গিয়েছিলেন শান্তর দিকে। তবে শান্ত কনুই দিয়ে মোস্তফার মুখে আঘাত করে বসেন। রেফারি সরাসরি তাকে লাল কার্ড দেখান। শক্তি হারিয়েও বাকি সময়টুকু মোহামেডান চেষ্টা চালিয়েছে ম্যাচে ফেরার। তবে ভাগ্য এবার সাদা-কালোদের সঙ্গে থাকেনি। ফলে কামাল বাবুর রহমতগঞ্জ ধরে রেখেছে তাদের জয়রথ।

কুমিল্লায় দুদলেই খেলেছে শতভাগ স্থানীয় ফুটবলার নিয়ে। তবে পার্থক্য হচ্ছে, ঢাকা আবাহনী এবার দল গড়েছে গত মৌসুমের সেরা পারফরমারদের নিয়ে। আর শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রাম আবাহনীর ঠিকানা হয়েছে দল না পাওয়া একঝাঁক ফুটবলারের। সুবাদে স্কোরলাইনেও স্পষ্ট হয়েছে ব্যবধানটা।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায় মারুফুল হকের ঢাকা আবাহনী। কামরুল ইসলামের ফ্রি কিকে শাহরিয়ার ইমনের হেড দ্বিতীয় পোস্টে লেগে গোল লাইন অতিক্রম করে। চট্টগ্রাম আবাহনীর এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করে গোল বাতিলের দাবি জানান। এ নিয়ে খেলাও কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। সাত মিনিট পরে এটাকে গোলের ঘোষণা দেন রেফারি। বিরতির পর ঢাকা আবাহনী আরও দুই গোল করে প্রতিপক্ষকে ছিটকে দেয়। ৭৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। আর শেষ দিকে স্কোরলাইন ৩-০ করেন অভিজ্ঞ ইয়াসিন খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত