জাসদ নেতার ভাইকে হত্যার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৩২ এএম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাদা পোশাকে একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ ঘটনায় চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম দুদু (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরে সাদা পোশাকে পুলিশ ঐ চা বিক্রেতাকে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা তিন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে একটি দোকানে অবরুদ্ধ করে রাখে। বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের একটি মোটরসাইকেল।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের চ-িপুর গ্রামের জিকে ক্যানেল পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টা ২০ মিনিটে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা অবরুদ্ধ পুলিশ

সদস্যদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম দুদু (৪৫) উক্ত এলাকার আজিজ ম-লের ছেলে। তার  ছোট ভাই মোস্তফিজুর রহমান মোস্তাক চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন জাসদের সাধারণ সম্পাদক।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ পুলিশ পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে। তবে অভিযানের ব্যাপারে পুলিশের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদগ্রাম এলাকার জিকে ক্যানেলের ৪ নম্বর ব্রিজের কাছে রফিকুলের চায়ের দোকান। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভেড়ামারা থানা পুলিশের এসআই সালাউদ্দীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ব্রিজ থেকে রফিকুল লাফ দেয়। পুলিশ সেখানে ধাওয়া করে তাকে আটক করে। এ সময় পুলিশ তাকে মারধর করলে এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে পুলিশকে ধাওয়া দেয়। এর মধ্যে ৩ জনকে ধরে ফেলে মারধর করে। তাদের বাজারের একটি দোকানে আটকে রাখা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি।

নিহতের ছোট ভাই চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন জাসদের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, আমার ভাই রফিকুল কোনো মামলার আসামি নয়। মামলার কোনো ওয়ারেন্টও  দেখাতে পারেনি পুলিশ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

পুলিশ কেন ঘটনাস্থলে গিয়েছিল ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি মাদক অভিযানে গিয়েছিলেন বলে কলটি কেটে  দেন।

কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) আবদুল খালেক জানান, তিন পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কেন পুলিশ  সেখানে গিয়েছিল সেটার তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে যাওয়া পুলিশদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত