সদ্য প্রয়াত হয়েছেন ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের পুরোধা ওস্তাদ জাকির হোসেন। যৌবনে তিনি একবার হারিয়ে দিয়েছিলেন মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনকে। হয়েছিলেন ‘সেক্সিয়েস্ট ম্যান’ বা যৌন আবেদনময়ী পুরুষ। ১৯৯৪ সালের ঘটনা সেটি। সে বছর নারী পাঠকদের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবদন্তী।
ভারতীয় সংবাদামাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, দেশটির জেন্টলম্যান ম্যাগাজিন জাকির হোসেনকে এই খেতাব দিয়েছিল। অবশ্য নাসরীন মুন্নী কবিরের সঙ্গে আলাপচারিতায়ও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন কিংবদন্তী। তিনি জানান, ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ অবাক হয়েছিল। কারণ তারা ধরে নিয়েছিল বিজয়ী হবেন অমিতাভ।
গত ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাকির হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি ভারতের পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে অন্যতম শ্রদ্ধেয় শিল্পী। তার অসাধারণ দক্ষতা এবং সংগীতে অবদান তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি এনে দিয়েছে।
ওস্তাদ আল্লা রাখা খাঁর প্রথম সন্তান জাকির হোসেন। জন্ম ১৯৫১ সালের ৯ মার্চ ভারতের মুম্বাইয়ে। তিন বছর বয়স থেকে বাবার কাছে তবলায় হাতেখড়ি হয়েছিল তার। ১২ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম কনসার্টে অংশ নেন।
সত্তরের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন জাকির হোসেন। শুরু হয় তার আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে বিচরণ। ১৯৭৩ সালে জর্জ হ্যারিসনের লিভিং ইন দ্য ম্যাটেরিয়াল ওয়ার্ল্ড অ্যালবামে অংশগ্রহণ তাকে এনে দেয় বিরাট স্বীকৃতি। তারপর থেকেই বহু খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী যেমন জন ম্যাকলাফলিন, মিকি হার্ট, বিল ল্যাসওয়েল, ভ্যান মরিসন, জো হেন্ডারসনসহ আরও অনেকের সঙ্গে তবলা পরিবেশন করেন। তবলায় তিনি সংগত করেছেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ, শিব কুমার শর্মা বা কত্থক নৃত্যশিল্পী বিরজু মহারাজকে।
সত্তরের দশকে তার প্রথম অ্যালবামগুলো প্রকাশিত হয়। এসব অ্যালবামে তবলার জটিল তাল ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনির সঙ্গে মিশে এক অনন্য শৈলী তৈরি করে। বিখ্যাত পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা বা বেরনার্দো বের্তোলুচ্চির সিনেমার জন্য তিনি বাজিয়েছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহায্যার্থে নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ারে আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এ তবলা পরিবেশন করেছিলেন তার বাবা ওস্তাদ আল্লা রাখা খাঁ। সেদিন সেখানে ছিলেন জাকির হোসেনও।
না ফেরার দেশে কিংবদন্তি তবলাবাদক ওস্তাদ জাকির হোসেন
বিজয় দিবস নিয়ে মোদির 'বিতর্কিত' পোস্ট, কড়া প্রতিবাদ হাসনাতের