ভবদহে জলাবদ্ধতার ক্ষতের ওপর শতবর্ষী মিলন উৎসব

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৬ এএম

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার ক্ষত এখনো শুকায়নি। তিন মাসের জলাবদ্ধতায় প্রায় সর্বস্বান্ত এলাকার অধিকাংশ মানুষ। সেই ক্ষত তাদের পিছপা করতে পারেনি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘গাউটে পূজা’র মেলার আয়োজন থেকে। ভবদহ পাড়ের কপালিয়া বাজারের পূর্বপাশে রাজবংশি পাড়ার কালীমন্দির চত্বরে সপ্তাহব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ মেলা প্রতিদিন বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে চলছে গভীর রাত পর্যন্ত।

স্থানীয়রা বলছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রীশ্রী মহামায়া পূজাকে কেন্দ্র করে এ মেলার আয়োজন হলেও এটি এ এলাকার হিন্দু-মুসলমানের অন্যতম মিলনমেলা।

মেলা উপলক্ষে মন্দিরের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে সুসজ্জিত মঞ্চ। মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্পীরা ধর্মীয়সহ বিভিন্ন গান পরিবেশন করছেন। এ ছাড়া কবিতা আবৃত্তি, নাটক ছাড়াও প্রতি রাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যাত্রাপালা।

মন্দির চত্বর ছাড়িয়ে ভবদহের তিনভেন্ট স্লুইসগেটের পাশ দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ছোট রাস্তার দুপাশে হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসেছে কয়েকশো দোকান। এসব দোকানে চাসহ বিভিন্ন খাবার, শিশুদের খেলনা, নারী-শিশুসহ সব বয়সীদের পোশাক, জুতা, স্যান্ডেল, প্রসাধনী সামগ্রী, কাঠের তৈরি আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী শোভা পাচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে নাগরদোলা, পুতুল নাচসহ ভিন্ন ভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা।

শুধু কপালিয়া নয়, শীত উপেক্ষা করে আশপাশের যশোর ও খুলনার চার উপজেলার মানুষও এই মেলায় দলবেঁধে আসছেন। শ্রীহরি নদীর বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে প্রতিদিন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে অনেক মানুষ মেলায় আসেন। শুধু ডুমুরিয়া নয়, পাশের যশোরের অভয়নগর ও কেশবপুর এবং খুলনার ফুলতলা উপজেলা থেকেও মানুষ আসেন মেলায়।

মেলা অয়োজক কমিটির সভাপতি শিবুপদ মন্ডল জানান, শত বছরের ঐতিহ্য গাউটে পূজা উপলক্ষে প্রতি বছর সপ্তাহব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। সনাতন ধর্মের পাশাপাশি মুসলমানরাও এ মেলায় অংশ নেন।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার সরকার জানান, জলাবদ্ধতার সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে ভবদহ জনপদের বাসিন্দাদের বসবাস করতে হয়। এখানে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। ফলে হাজারো কষ্টের মধ্যে এ মেলা ভবদহবাসীকে একটু আনন্দ দেয়।

স্থানীয় মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার ফারুক মিন্টু জানান, প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ মেলা এলাকার সব ধর্মের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্ধন তৈরি করে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘শত বছরের ঐতিহ্য গাউটে পূজা উপলক্ষে আয়োজিত মেলা হিন্দু-মুসলমানরা একত্র হয়ে নির্বিঘ্নে পালন করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এ মেলা নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত