চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে বিভিন্ন সেবা সংস্থার বিচ্ছিন্ন কার্যক্রমের পরিবর্তে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় নগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা শৃঙ্খলার সাথে চলাচলের জন্য একটি নীতিমালারও প্রস্তাবনা পেশ করেন তিনি।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) নগরীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ নীতিমালা পেশ করেন।
তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য যত্রতত্র চলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নীতিমালা এই নীতিমালা প্রয়োজন। এই নীতিমালা অনুযায়ী ট্রাফিক উত্তর জোনে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দার হাট হয়ে দামপাড়া পুনাক ক্রসিং পর্যন্ত, ষোলশহর দুই নম্বর গেট থেকে প্রবর্তক মোড়, গোলপাহাড়, জিইসি, জাকির হোসেন রোড ও ওয়ারল্যাস মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত মূল সড়কে ব্যাটারি রিকশা চলাচল বন্ধ থাকবে। ট্রাফিক দক্ষিণ জোনে দামপাড়া পুনাক হতে টাইগার পাস হয়ে নিউ মার্কেট, কোতোয়ালী পর্যন্ত, নিউ মার্কেট হতে জুবিলী রোড, কাজির দেউড়ি, আলমাস হয়ে দামপাড়া ওয়াসা মোড় পর্যন্ত, লালখান বাজার হতে জামাল খান, আন্দরকিল্লা মোড়, গণি বেকারি মোড় হতে চট্টগ্রাম কলেজ, কেয়ারী মার্কেট, গুলজার মোড়, অলি খাঁ মসজিদ মোড়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের গেট পর্যন্ত মূল সড়কে ব্যাটারি চালিক রিকশা বন্ধ রাখতে হবে। ট্রাফিক পশ্চিম জোনে দেওয়ান হাট হতে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়, এক্সেস রোড, ডিটি রোড প্রধান সড়কে ব্যাটারি রিকশা বন্ধ রাখতে হবে। ট্রাফিক বন্দর জোনে বারিক বিল্ডিং এর মোড় হতে সল্টগোলা ক্রসিং, কর্ণফুলী টানেলের গোলচত্বর, আকমল আলী রোডের মাথা, লিংক রোডের প্রধান সড়কে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধ রাখতে হবে।
মেয়র বলেন, নগরীকে যানজট মুক্ত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবগুলো সেবা সংস্থা সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন।
নগরীতে প্রয়োজনীয় যাত্রী ছাউনি ও বাসস্টপেজ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, কুলগাঁও এলাকায় খুব দ্রুত একটি বাস টার্মিনালের কাজ শুরু হবে। কর্ণফুলী ব্রিজের কাছে যানজট নিরসনে সেখানে একটি বাস টার্মিনাল অথবা বাসস্টেশন চালুর ব্যবস্থা করা হবে। বহদ্দারহাট যে বাস টার্মিনাল সেখানে পর্যাপ্ত টয়লেট ও আলোর সুবিধা নেই। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে নাগরিকদের সুবিধা হবে।
মেয়র বলেন, নগরীর যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হলে যত্রতত্র বাসসহ যেকোন যানবাহন দাঁড়ানো বন্ধ করতে হবে। যাত্রী ছাউনি, বাস স্টপেজ যেখানে থাকবে সেখানে দাঁড়াতে হবে। এই বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বাওয়া স্কুলের মুখে র্যাম্প নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিলের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পেনিনসুলা হোটেলের মালিককে খুশি করার জন্য জনগণের স্বার্থের বিরূদ্ধে গিয়ে এই র্যাম্পটি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান, বিআরটিএর পরিচালক মো. মাসুদ আলম, ট্রান্সপোর্ট প্রফেশনালস এলায়েন্স এর সিইও ড. মোহাম্মদ নুরুল হাসান, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সমূহের নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।
ঘোড়াঘাটে অর্ধকোটি টাকার ট্যাপেনটাডোলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
ঢামেক থেকে সাদপন্থী কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
ইজতেমা মাঠ ছাড়ছেন মুসল্লিরা
অটোরিকশাস্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ-গুলি, আহত ৫