অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক মায়ের চার অপরিণত নবজাতকের জন্মদানে অসামান্য সফলতা দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা। চার নবজাতকই এখন সুস্থ আছে। হাসি আর আনন্দে কাটছে তাদের মা-বাবার প্রতিটি মুহূর্ত। তবে সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য এই শিশুদের চিকিৎসকদের নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে।
বিএসএমএমইউর নিওনেটোলজি (নবজাতক) ও ফিটোম্যাটার্নাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক, রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী ও নার্সদের নিবিড় চেষ্টায় এই সফল অস্ত্রোপচার হয়। আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এক মায়ের চার সন্তান জন্মদানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতার এই তথ্য জানানো হয়।
চার নবজাতকের বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, তার স্ত্রী রেহেনা আক্তার বিএসএমএমইউয়ের ফিটোমেটানাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাবাসসুম পারভীনের অধীনের চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ৯ নভেম্বর তার স্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। ১৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় ফিটোমেটানাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা সফলভাবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চার শিশুর জন্মে সফল হন। বর্তমানে চার শিশুর বয়স ১ মাস ৬ দিন। ইতিমধ্যে চার নবজাতকের নামও রাখা হয়েছে। ছেলে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে আবরার হাসনাত, তিন কন্যা শিশুর নাম রাখা হয়েছে নাজিফা তানজুম, নাফিসা তাবাসুম ও নুসাইফা ইসলাম।
শিশুদের বাবা আরও জানান, একটি সুস্থ নবজাতকের ওজন আড়াই থেকে চার কেজি পর্যন্ত হলেও জন্মের সময় তার সন্তানদের ওজন ছিল ১১৩০ গ্রাম থেকে ১২৭৫ গ্রাম পর্যন্ত। এত কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করার পরেও তার সন্তানেরা সুস্থ থাকায় তিনি বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাবা গোলাম মোস্তফা আরো জানান, এই চার সন্তান ছাড়াও তাদের ১০ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তান জন্মদানের পর তার স্ত্রী সন্তান ধারণে বিলম্বজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ফলে ওভুলেশন বাড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তার স্ত্রীকে ওষুধ সেবন করতে হয়েছে।
এ সময় এক নবজাতকে কোলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, একসাথে চারজন বাচ্চার জন্মদান অবশ্যই ব্যতিক্রম। চার নবজাতকই কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। ফলে তাদের সুস্থ রাখা খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। সফল সিজারের মাধ্যমে নবজাতাকদের সুস্থভাবে জন্মদান নিশ্চিত করাটাও চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে নিওনেটোলজি ও ফিটোম্যার্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা যথাযথ ও গুণগতমানের ওটিসহ চিকিৎসেবা প্রদান করায় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব হয়েছে। চার নবজাতকই সুস্থ আছে।
উপাচার্য এই জন্মদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসনক ও নার্সসহ সবাইকে অভিনন্দন জানান।
নিওনেটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে এই চার নবজাতককে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের ছিল। তারপরও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুস্থ রাখা সম্ভব হয়েছে। নবজাতকদের চিকিৎসাসেবা ও যথাযথ যত্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বিষয় হলো- ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি), হ্যান্ড ওয়াসিং, আরলি ব্রেস্ট ফিডিং বা দ্রুত মায়ের কাছে নবজাতককে শিফট করে মায়ের বুকের দুধ পান করানো নিশ্চিত করা ও প্রয়োজন হলে নবজাতকের শ্বাস কষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিপাপ নামক ডিভাইসের সেবা নিশ্চিত করা।
ফিটোম্যাটানাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তাবাসসুম পারভীন বলেন, একসাথে চার সন্তানের গর্ভধারিণী জননীর সফলভাবে ওটি সম্পন্ন করা সার্জনদের জন্য একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। এক্ষেত্রে আমরা সফল হলেও এ সকল শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে।
ডা. নুজহাত নূয়েরি জুঁই জানান, কম ওজনের অপরিণত নবজাতকদের ক্ষেত্রে ভাইরাস, ফাঙ্গাসসহ যেকোনও ধরনের সংক্রমণের উচ্চমাত্রার ঝুঁকি থাকে। জন্মের পর এই চার নবজাতকের প্রত্যেককে কমপক্ষে পাঁচ দিন ইনকিউভিটরে রাখা হয়েছিল। কম ওজনের শিশুদের অপরিণত খাদ্যনালীর কারণে হজমশক্তির অভাব, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারা, রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারা, অপরিণত ফুসফুসের কারণে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, ব্রেইনে রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থাকে। কম ওজনের অপরিণত নবজাতকদের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে বিবেচনা নিয়েই চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হয়।
ব্যাংকে জিম্মিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
বাতিলকৃত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পুনর্বিবেচনা করবে সরকার
অর্ধশত পুরুষ দিয়ে স্ত্রীকে ১০ বছর ধর্ষণ, যে শাস্তি পেল স্বামী