সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৪১ এএম

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বেলগাছি-মধুখালী আঞ্চলিক সড়কের গান্ধীমারা বাজারসংলগ্ন একটি সেতুর সংযোগ সড়কের দুপাশের মাটি ধসে গেছে। এতে করে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। ইতিমধ্যে ধসে যাওয়া স্থানে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বরাদ্দ না পাওয়ায় আপাতত সড়ক মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কটি বেলগাছি থেকে মধুখালীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গান্ধীমারা বাজার। বাজার থেকে বেলগাছি রেলস্টেশন দিকে রাস্তাটি চলে গেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় প্রতিদিন ছোটবড় কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। গত দুই থেকে আড়াই মাস হয়ে গেছে এই সেতুর দুপাশের মাটি ধসে গেছে। ধসে যাওয়া সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু কেউ এটি মেরামত করছে না। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গান্ধীমারা বাজার থেকে বেলগাছি রেলস্টেশনের দিকে যাওয়ার পথে গান্ধীমারা বাজারসংলগ্ন স্থানীয় একটি খালের ওপর একটি পুরাতন সেতু। সেতুর উত্তর দিকে দুপাশে মাটি ধসে গেছে। এক পাশে প্রায় ২০ ফুট এলাকা জুড়ে মাটি ধসে গেছে। এতে করে সেতুর সংযোগ সড়কের দুপাশেই প্রায় দেড় থেকে দুই ফুট পিচ ঢালাইয়ের রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। সেতুর নিচে খালের গভীরতা প্রায় ৩০ ফুট। ধসে যাওয়া স্থানে একটি লাঠির সঙ্গে লাল কাপড় বেঁধে সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘প্রায় তিন মাস ধরে এই সেতুর পাশের মাটিতে ধস নেমেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চেয়ারম্যান-মেম্বার কিংবা কোনো সরকারি কর্মকর্তা দেখতে আসেননি। এখান দিয়ে ছোটবড় সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এই রাস্তায় কোনো বৈদ্যুতিক আলো নেই। গত সপ্তাহে একটি ভ্যান আরেকটি গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে খালের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। এর আগে আরেকজন মানুষ খালের মধ্যে চলে গিয়েছিল। নিয়মিত ঝুঁকি নিয়েই এই রাস্তায় যান চলাচল করছে।’

ইজিবাইকচালক লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমরা দিনে-রাতে এই রাস্তায় গাড়ি চালাই। অনেক দিন হয়ে গেছে এই রাস্তার মাটি ধসে গেছে।’

লুৎফর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত মোটরসাইকেলে চলাচল করি। আমার মতো অনেক অচেনা মানুষও এখান দিয়ে চলাচল করে। একটু বেখেয়াল হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। সেতুর দুপাশের মাটিই ধসে গেছে। এটি খ্বুই ঝঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এখানে মেরামত করা দরকার।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘আমরা স্থানটি পরিদর্শন করেছি। আপাতত আমাদের মেরামত করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। এর জন্য অর্থ বরাদ্দ এলে মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত