নিম্নচাপে মেঘের চাদরে ঢেকে রয়েছে দেশের আকাশ। আর এতে গতকাল শনিবার দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি অধিকাংশ এলাকায়। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় রাতে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গিয়ে বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা। তবে এই তীব্রতা আরও বাড়বে সপ্তাহের শেষে। নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর আগামী মঙ্গল বা বুধবারের দিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত ঝরাতে পারে।
মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ প্রসঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কার্যালয়ের বিশ^জিৎ ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে আকাশে প্রচুর মেঘ তৈরি হয়েছে। এসব মেঘ ওপরের দিকে উঠে যাওয়ায় বৃষ্টি হয়নি। তবে আগামী মঙ্গল বা বুধবারের দিকে নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে।’ বৃষ্টিপাতের পর কি শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃষ্টির পর শীতের তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। তবে এর আগে মেঘের আস্তরণের কারণে সূর্যের তাপমাত্রা স্থলভাগে পৌঁছাতে পারবে না বলে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।
এদিকে গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। গত সপ্তাহে দেশের কয়েকটি এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ দেখা গেলেও এ সপ্তাহে এখনো শুরু হয়নি। তবে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে না পারলে শীতের তীব্রতা বাড়বে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদরা গত সপ্তাহে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, ২০ ডিসেম্বরের পর দেশ জুড়ে আবারও তাপমাত্রা কমতে পারে। তবে তখন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেশি কমবে না, তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে আসবে। তখন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উভয় তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসবে বলে শীতের অনুভব তীব্রতা বাড়িয়ে দেবে অনেকখানি। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সন্দ্বীপ ও বান্দরবানে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পূর্বাভাস অনুযায়ী এই ব্যবধান দ্রুত কমতে থাকবে।
কোনো অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যদি ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তখন ওই এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। আর যদি তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় তখন ওই এলাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হয় তখন ওই এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। দেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল হলেও জানুয়ারি মাস বছরের সবচেয়ে শীতলতম মাস। বছরের এ সময়ে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। এ সময়ে সাধারণত উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শীতল বাতাস প্রবেশ করে থাকে।
