খুলনার স্বপ্নভঙ্গ ফাইনালে মেট্রো

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৪৯ এএম

সিলেটে কাল দেখা মিলেছিল সূর্যের। রোদ ছড়িয়েছিল আলো। সেই সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস, সেই হাওয়ায় এনামুল হক বিজয়দের উচ্ছ্বাস মিশে গিয়েছিল এক মোহনায়, আলিস ইসলামের হাতছোঁয়া ঘূর্ণির জাদুতে। ম্যাচ শেষে তার উদযাপনটিই যেন খুলনা বিভাগের স্বপ্ন ভাঙার গল্প বলে দিচ্ছিল। জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ঢাকা মেট্রোর দেওয়া ১২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ৮১ রানে থেমে যায় খুলনার ইনিংস। ৩৮ রানের জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ঢাকা মেট্রো।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে শুরু থেকেই খুলনার ব্যাটিং ছিল বিপর্যস্ত। মেট্রোর বোলারদের তোপে শক্তিশালী খুলনা যেন মাটিতে মিশে যাচ্ছিল একের পর এক উইকেট হারিয়ে। লক্ষ্যটা বড় ছিল না, মাত্র ১২০। কিন্তু এমন সহজ লক্ষ্যই তাদের জন্য পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়।

খুলনার শক্তিশালী ব্যাটিং অর্ডার শুরুতেই ভেঙে পড়ে। আজিজুল হাকিম ও ইমরুল কায়েস শূন্য রানে বিদায় নেন, এনামুল হক বিজয় করেন ১৬, আর মোহাম্মদ মিঠুন আউট হন মাত্র ১ রানে। ২৩ রানেই ৪ উইকেট হারানো খুলনার হাল ধরার দায়িত্ব যায় সর্বশেষ ম্যাচে ফিফটি করা নুরুল হাসান সোহানের ওপর।

তবে ঢাকা মেট্রোর স্পিনার আলিস আল ইসলাম এই ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত। ১১তম ওভারে নুরুলকে ফেরানোর পর খুলনার পরাজয় কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। নুরুল ১৮ বলে ২২ রান করলেও খুলনার ইনিংস ৮১ রানের বেশি এগোতে পারেনি।

আলিস ৪ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তুলে নেন ১ উইকেট, যা খুলনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাকিবুল হাসান ১৬ রান খরচায় ১ মেইডেনসহ ২ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। লঙ্কা টি-টেন লিগের শিরোপা জিতে আসা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝুলিতে গেছে ৩ উইকেট, আর পেসার মারুফ মৃধা শিকার করেন দুটি।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ঢাকা মহানগরের শুরুটা ছিল দারুণ। ইমরানুজ্জামান ও অধিনায়ক মোহাম্মদ নাঈম মাত্র ২৭ বলে ৪০ রানের জুটি গড়ে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। কিন্তু ইমরানুজ্জামান ১৪ রান করে আউট হওয়ার পরই থেমে যায় ঢাকার রানের গতি।

নাঈম নিজের ধৈর্য ধরে রাখা ইনিংসে ৪৮ বলে ৫০ রান করেন। তবে দলের অন্য ব্যাটাররা সেভাবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন শুধু ৯ নম্বরে নামা শহীদুল ইসলাম (১৬ রান)। ফলে ১১৯ রানের বেশি করতে পারেনি ঢাকা।

খুলনার পেস আক্রমণ এদিন ছিল বেশ ধারালো। মেহেদী রানা, পারভেজ ও মাসুম খান নেন ২টি করে উইকেট। তবে জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন ব্যর্থ। ৪ ওভারে খরচ করেন ৩৫ রান, পান মাত্র ১ উইকেট।

সোহানের উইকেট নিয়েই ঢাকা মেট্রোর ফাইনালে ওঠার নায়ক বনে যান আলিস। কোয়ালিফায়ারের এই পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস জোগাবে পরশু রংপুরের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে। রংপুরও আসর জুড়ে দুর্দান্ত খেলেছে। এই মেট্রোকে হারিয়েই তারা সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। এবার দেখার অপেক্ষা, সিলেটের এই সবুজ মাঠে ঢাকার উদযাপন শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের মুকুটে রূপ নেয় কি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত