উপসচিব পদে পদোন্নতির সংস্কার প্রস্তাবে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এই ক্যাডারের কয়েকশ কর্মকর্তা গতকাল রবিবার দিনভর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শোডাউন করেন। পরে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বাসা) সভাপতি মো. আনোয়ার উল্লাহর নেতৃত্বে শত শত কর্মকর্তা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় বারান্দায় অবস্থান নেন। এসব কর্মকর্তার তোপের মুখে পড়েন সিনিয়র সচিব।
পরিস্থিতি নিয়ে বাসা সভাপতি মো. আনোয়ার উল্লাহ, ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) তানভীর আহমেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্য সচিব মো. মোখলেস উর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারা নিজেদের দাবিদাওয়া সচিবের কাছে তুলে ধরেন।
পরে সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে চলতি সপ্তাহেই বাসার সঙ্গে আলোচনা হবে। এরপর কারও মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকবে না। সংস্কার নিয়ে অনেকের অনেক ধরনের মতামত আছে, তারা মতামত দিচ্ছেন। বাসাও লিখিতভাবে তাদের প্রস্তাবনা দিয়েছে। আমরা এটা কমিশনে জমা দেব। কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে অবশ্যই বাসার সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংস্কার কমিশনের চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের স্টেকহোল্ডাররা তাদের মতামত দিচ্ছেন। অনেকে অনলাইনে কেউ লিখিতভাবে হাতে হাতে দিচ্ছেন।’
জনপ্রশাসন সচিব আরও বলেন, ‘আমাদের কয়েকটা মৌলিক বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২৩টা কমিশন হয়েছে। এটা ২৪তম কমিশন। এটা শুধু জনপ্রশাসন কমিশন না; এরকম আরও ছয়টা কমিশন রয়েছে। সব কমিশনই শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিবাদ বা মিছিল না, শোভনীয় প্রক্রিয়ায় আমরা এখানে এসেছি। কমিশনের প্রধান যেহেতু নেই, তাই সদস্য সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন সচিবের কাছে দাবিদাওয়া জানিয়েছি।’
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোডাউন দিতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘বাসা একটা অ্যাসোসিয়েশন। তারা এসেছে মতামত জানাতে।’
উপসচিব পদে পদোন্নতিতে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ আর অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করবে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এ ছাড়া পদোন্নতির জন্য কর্মকর্তাদের অংশ নিতে হবে লিখিত পরীক্ষায় এমন প্রস্তাবনার কথা প্রকাশের পরপরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন প্রশাসন ক্যাডারসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
