সম্পদের পাহাড় ডিপিডিসির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৬ এএম

ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুদক থেকে এসব তথ্য মিলেছে।

দুদক কর্মকর্তা অনুসন্ধানের প্রয়োজনে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চেয়ে ব্যাংক, বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) ৭০টি বেশি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী শামসুন নাহার অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানের প্রয়োজনে আপনার দপ্তরে থাকা রেকর্ডপত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে দুদকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, পিরোজপুর জেলার ভা-ারিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে বেলায়েত হোসেন। শিক্ষাজীবনে টিউশনি করে পড়াশুনা করেন। তিনি চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করার পর বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি পেয়ে আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যান। প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অবসর নেন বেলায়েত হোসেন। চাকরি করে তিনি নিজের ও স্ত্রী শামসুন নাহারের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়েন। আয়কর রিটার্ন দাখিলে সম্পদের তথ্য গোপন করতে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়াসহ বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এই দম্পতি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বেলায়েত হোসেনের নামে ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানম-িতে ৩/এ নম্বর রোডের ৫৬ নম্বর শা শা বাড়ি নামীয় ভবনে ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাট দুটির নম্বর হলো ৩/এ এবং ৩/বি। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৪ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকা। বাস্তবে ফ্ল্যাট দুটির মূল্য কমপক্ষে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। এছাড়া খিলগাঁও থানা উলন মৌজায় ৪১২ দশমিক ৫ অযুতাংশ জমি রয়েছে, যার মূল্য দেখান ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, এ সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। একই মৌজায় ২ দশমিক ৮ কাঠা জমি আছে, যার মূল্য দেখান ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। বাস্তবে জমির মূল্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। রামপুরার আফতাবনগর প্রকল্পে তার ৫ কাঠা এবং ১০ কাঠা আয়তনের দুটি প্লট। ঢাকার ডেমরা, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ এবং গাজীপুরে নিকট আত্মীয় স্বজনের নামে কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করেন, ব্যাংকে গচ্ছিত রাখেন কোটি কোটি টাকা। তার একটি এক্স করোলা (ঢাকা মেট্রো গ-২৬-৫৪৮৩ ) গাড়ি আছে। এছাড়া চতুর বেলায়েত হোসেন গার্মেন্টসের ব্যবসা পরিচালনা করান আপন বোন নাজমুন নাহার ও ভগ্নিপতি কামরুজ্জামানকে দিয়ে। এছাড়া আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি তার এমন অনেক সম্পদ রয়েছে। বেলায়েত হোসেনের ৫০ তোলা স্বর্ণালংকার রয়েছে। তার স্ত্রীর অনেক স্বর্ণালংকার রয়েছে। তিনি চিকিৎসা করান সিঙ্গাপুর ও ভারতের ব্যয়বহুল হাসপাতালে।

অভিযোগে বলা হয়, বেলায়েত হোসেনের স্ত্রী শামসুন নাহারের দৃশ্যমান কোনো আয় না থাকলেও তার রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। তিনিও স্বামী বেলায়েত হোসেনের মতো আয়কর রিটার্নে নিয়েছেন জালিয়াতির আশ্রয়। আয়কর রিটার্নে তার সম্পদ ও অর্থের পরিমাণ যা দেখানো হয়েছে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা। বাস্তবে তার নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন তার স্ত্রী শামসুন নাহারের নামে একাধিক স্থানে জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েক লাখ টাকার এফডিআর করেছেন। শামসুন নাহারের নামে ৪৪/এ হাজি পাড়ায় এবং রামপুরায় রয়েছে ২ কোটি টাকার জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের নামে, পুত্রের নামে ও নিকটাত্মীয়দের নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র। তার স্ত্রী একটি এক্স করোলা গাড়ি ব্যবহার করেন, যার নম্বর ঢাকা গ ১৯-৪৮৩৮। গাড়িটি স্ত্রীর নামে ক্রয় করে বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন করেন। পরবর্তী সময়ে আমেরিকা প্রবাসী চাচা শ্বশুর মো. ইয়াকুব আলী শরিফের ছেলে রুবায়েত শরিফের নামে রেজিস্ট্রেশন করান। গাড়িটি বেলায়েত হোসেনের স্ত্রী ব্যবহার করেন। এই দম্পতির বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য পেয়েছে দুদক। 

অভিযোগ রয়েছে, বেলায়েত হোসেন ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে সুযোগসন্ধানী এই অর্থলোভী দুর্নীতিবাজ বেলায়েত হোসেন চাকরি জীবনে যখন যে সরকার ক্ষমতায় ছিল তার একনিষ্ঠ সমর্থক হয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন লোভনীয় পদ। আর দুই হাতে কামিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। আয়কর রিটার্ন দাখিলে বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রীর যে পরিমাণ অর্থসম্পদ দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তাদের সম্পদের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত