উচ্ছ্বাসে শুরু হতাশায় শেষ

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৫৪ এএম

অনেকটা উচ্ছ্বাস নিয়েই দেশে প্রথমবারের মতো একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় বেসরকারি খাতের ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি (এক্সিম ব্যাংক) ও পদ্মা ব্যাংক। চলতি বছরের ১৮ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের পলাতক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আফজাল করিমের উপস্থিতিতে দুটি ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

মার্জারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার এক বছর না যেতেই পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক্সিম ব্যাংক। গত ২৩ ডিসেম্বর এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

একীভূত হওয়া নিয়ে দুই ব্যাংকের এমওইউ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এক্সিম তৎকালীন ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আগামীকাল (১৯ মার্চ) থেকে আর পদ্মা ব্যাংক থাকছে না। ব্যাংকটিকে একীভূত করার কারণে নতুন কার্যক্রম চলবে এক্সিম ব্যাংকের নামে। একীভূত করা হলেও কোনো এমপ্লয়ি চাকরি হারাবেন না।’ যদিও তখনো মার্জারের নীতিমালা প্রকাশ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এই প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দিয়েছে ব্যাংক খাতে। দুর্বলের সঙ্গে সবল এবং বেসরকারির সঙ্গে সরকারি ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পুরো ব্যাংক খাতে একধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ব্যাংকে টাকা রাখা-না-রাখা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন আমানতকারীরা। এজন্য ভয়ে অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেন। ব্যাংক একীভূত নিয়ে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যেই ধোঁয়াশা দেখা দেয়।

চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সরকারি খাতের দুটি ব্যাংককে অন্য দুটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। জানানো হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হবে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এবং সোনালী ব্যাংকের সে ঙ্গ মিলবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)। এরপর ৮ এপ্রিল বেসরকারি সিটি ব্যাংকের সঙ্গে সরকারি খাতের সমস্যাগ্রস্ত বেসিক ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। আর সর্বশেষ ৯ এপ্রিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বা ইউসিবির সঙ্গে সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত আসে।

এ ছাড়া গেল ৪ এপ্রিল ব্যাংক একীভূতকরণের নীতিমালা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নীতিমালায় বলা হয়, কোনো ব্যাংক স্বেচ্ছায় একীভূত হতে চাইলে নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদে সিদ্ধান্ত নেবে। একীভূত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ৩ বছর পর্যন্ত পৃথক আর্থিক বিবরণী প্রণয়ন করতে পারবে। এতে অধিগ্রহণকারী ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে ৩ বছর পর অবশ্যই একীভূত হওয়া দুই ব্যাংকের সমন্বিত আর্থিক বিবরণী প্রণয়ন শুরু করতে হবে। এ ছাড়া, দুর্বল ব্যাংককে ২০২৫ সাল থেকে বাধ্যতামূলক একীভূত করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ব্যাংক একীভূত হওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। এ কাজের খরচ জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দায় ও সম্পদ গ্রহণের দরপত্র পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করতে হবে, যাতে ওই ব্যাংকের সব ধরনের তথ্য থাকবে। এতে সাড়া না মিললে যে কোনো ব্যাংকের সঙ্গে ওই ব্যাংককে একীভূত করে দিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন হলে শুরু হয় ব্যাংক সংস্কারের কাজ। এর মধ্যেই হারিয়ে যায় মার্জার নিয়ে আলোচনা। বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করা হয়। এর মধ্যে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা আটটিসহ মোট ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে নতুন করে পুনর্গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পর্ষদ পুনর্গঠন করা অন্য তিন ব্যাংক হলো, আইএফআইসি, ইউসিবি ও এক্সিম ব্যাংক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত