টঙ্গীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারখানায় নির্বাচন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৫ এএম

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পুলিশের নিষেধাজ্ঞার এলাকার মধ্যেই একটি কারখানার সিবিএর নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সব পদে বিজয় লাভ করেন শ্রমিক লীগ নেতারা। তবে নির্বাচন বিতর্কিত বলে অভিযোগ করে আসছেন কারখানার শ্রমিক দলের নেতারা।

টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের কাছে সাইনোভিয়া ফার্মা পিএলসি কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের তিন কিলোমিটারে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত বা সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ওই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।

জানা গেছে, তড়িঘড়ি করে অতি গোপনীয়তার সঙ্গে ওই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর প্রতীকসহ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের এক দিন পরই গত ১৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদসহ সিবিএ নির্বাহী কমিটির ১১ পদেই শ্রমিক লীগ নেতাদের জেতানো হয়েছে। নবনির্বাচিত সভাপতি শ্রমিক লীগ নেতা শামসুল আলম ২০১৩ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সিবিএর সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। বিগত প্রায় ১৭ বছর নির্বাচন ছাড়াই শ্রমিক লীগ নেতারা ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

কারখানাটির চাকরিচ্যুত কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছর আগে বহুজাতিক সাইনোভিয়া ফার্মার মালিকানা কিনে নেন গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এরপর থেকেই কারখানাটির বিএনপিপন্থি অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারীকে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করে আসছে। শ্রমিক লীগনিয়ন্ত্রিত সিবিএকে ব্যবহার করে অব্যাহত শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ফলে কোম্পানিটির ৩২০ জন শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২৫ জন। মালিকপক্ষের ওই দালালদের দিয়ে নির্বাচনের নামে আবারও সিবিএ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

টঙ্গী পূর্ব থানার ফরিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর কারখানার একজন পত্রবাহক এসেছিলেন, আমরা নির্বাচন করতে নিষেধ করে দিয়েছিলাম। পরদিন সকালে খবর পেয়ে আমরা পুলিশ পাঠিয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দিই। পরে তারা কারখানার ভেতর নির্বাচন করেছেন কি না, তা আমাদের জানা নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত