গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও চারজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। একই সঙ্গে আগামী ২৬ জানুয়ারি এ আসামিদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত। ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে চিফ প্রসিকিউটর ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘হত্যা করে লাশ পোড়ানো একটি নৃশংস ঘটনা। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছিলাম। আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।’
চার পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নাম বলা মাত্র পালিয়ে গেছে। সেজন্য এই মুহূর্তে নামগুলো বলছি না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন যারা গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে, তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে পালিয়ে যাওয়ার আগে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে পারে।’
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত সংস্থা ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করেছে এবং তাতে জানা গেছে, এ ঘটনার সময় ঢাকা-১৯ আসনের তৎকালীন এমপি সাইফুল ইসলাম তিনি ছাত্রলীগকে নিয়ে নিজ হাতে পুলিশের পাশাপাশি গুলিবর্ষণ করেছেন। তিনিসহ এই লাশ পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে সেই সময় আশুলিয়ায় কর্মরত চারজন পুলিশ অফিসারকে আমরা শনাক্ত করেছি।’
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে ভারতকে বাংলাদেশের চিঠি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রাষ্ট্র রাষ্ট্রের কাজ করেছে। আমাদের অনুরোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সেই ব্যবস্থা নিয়েছে। এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। আমরা চাইব, এই কাজের (শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা) মাধ্যমে সফল হয়ে তাকে যদি আনতে পারে তাহলে বিচারটা আরও ভালোভাবে করা সম্ভব হবে।’
