পেসারদের দাপটে রংপুরের শিরোপা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:০৪ এএম

ঢাকা মেট্রোকে রেকর্ড ৬২ রানে বেঁধে দেওয়ার পরও ছোট লক্ষ্যটা তাড়া করতে নেমে শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছিল রংপুর। তবে শেষমেশ ৫২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে সেই মাইলফলক পেরিয়ে যান আকবর আলীর দলের খেলোয়াড়রা। ১৪ বছর পর মাঠে গড়ানো জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় আসরের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলেছে রংপুর বিভাগ।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজশাহী। সেই আসরে বিদেশিরা থাকলেও এবারের আসরটি শুধুই দেশি ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রমাণের আসর। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে বোলিংয়ে নামা রংপুরের হয়ে ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে রাকিবুল হাসানকে আবদুল্লাহ আল মামুনের ক্যাচে পরিণত করেন ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিতি মুখ ৩৩ বছর বয়সী অলরাউন্ডার আলাউদ্দীন বাবু। যেটি তার ম্যাচের তৃতীয় ও আসরের ১৯তম উইকেট। এনসিএলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও। সেইসঙ্গে শিরোপা লড়াইয়ে মাত্র ৬২ রানে অলআউট হয়ে যায় গ্রুপপর্বে ৭টির সবকটিতে জিতে আসা ঢাকা মেট্রো।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে হোঁচট খেতে হয় রংপুরকেও। ১৮ রান তুলতেই চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলে দলটি। তবে এরপর আরিফুল হক ও আনামুল হকের ১৪ রানের দুটি ইনিংসে বাকি রান তুলে ফেলতে সমস্যা হয়নি। দলীয় ৪২ রানে আরিফুল ফিরলেও দায়িত্ব নিয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে রংপুরের কাজ সহজ করে দেন তানবির হায়দার। ৮ রানে আনামের সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন তিনিও। ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ৮ রানে ১ উইকেট নেন মেট্রোর আবু হায়দার রনি। আলিস আল ইসলাম দুটি ও রাকিবুল একটি উইকেট নেন।

এর আগে ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই পেশিশক্তির প্রদর্শন দেখায় রংপুর। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ এবং আলাউদ্দীন বাবুর বোলিং তোপে পাঁচ ওভার না যেতেই ১৬ রানে ঢাকা মেট্রোর পাঁচ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরে যেতে হয়। সিলেটের চোখধাঁধানো স্টেডিয়ামে মুগ্ধ তিনটি ও বাবু তখন দুটি উইকেট শিকার করেন। ঢাকা মেট্রোর ব্যাটিং ধসের শুরুটা করেন মুগ্ধ। তৃতীয় বলেই তিনি ফেরান ইমরানুজ্জামানকে। পরের ওভারে বাবুর হাতে বল তুলে দেন রংপুর অধিনায়ক আকবর আলী। মেট্রো অধিনায়ক ও ৩১৬ রান নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নাইম শেখকে শূন্য রানেই থামিয়ে দেন বাবু।

তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে আনিসুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের উইকেট তুলে নেন মুগ্ধ। পঞ্চম ওভারে বাবু এসে তুলে নেন তাহজিবুল ইসলামের উইকেট। ষষ্ঠ ওভার মেডেন দেন রবিউল হক। তাতে পাওয়ার প্লেতে ১৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাকফুটে চলে যায় ঢাকা মেট্রো। শামসুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সেই ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করলেও আর ম্যাচে ফেরা হয়নি মেট্রোর।

এই প্রথম কোনো দল দেশের স্বীকৃত কোনো টি-টোয়েন্টি আসরের ফাইনালে ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো। ৩.৩ ওভারে ১২ রানে ৩ শিকার বাবুর। ৪ ওভারে মুগ্ধর বোলিং ফিগারও ১২/৩। বিদেশিদের আধিপত্যে বিপিএলে সুযোগ না পাওয়া অনেকেই খেলেছেন এনসিএলে। দেখিয়েছেন হাত খুলে খেলতে পারেন তারা। বিপিএলে ম্যাচপ্রতি গড় ছক্কা ছিল ১৩টি করে। এখানে ম্যাচ কম হলেও গড় ছক্কা ১৩.০৬টি। প্রতিভা অন্বেষণ বলি কিংবা প্রমাণের মঞ্চ, এ উদ্যোগকে তাই সফল তকমা দেওয়াই যায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা মেট্রো : ১৬.৩ ওভারে ৬২ (মুকিদুল ৪-০-১২-৩, আলাউদ্দীন ৩.৩-০-১২-৩, রবিউল ৩-১-৯-১, রিজওয়ান ৩-০-১২-১, আরিফ ৩-১-১৪-১) । রংপুর : ১১.২ ওভারে ৬৫/৫ (আবু হায়দার ৪-১-৮-১, আলিস ৪-০-১৩-২, শহিদুল রকিবুল ১.২-০-২৪-১)

ফল : রংপুর ৫ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন। ফাইনাল সেরা : মুকিদুল ইসলাম। টুর্নামেন্ট সেরা : আবু হায়দার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত