সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্র্বর্তী সরকার। গতকাল মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
ব্যাপক আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের সমালোচিত ৫৭-সহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের আরও কিছু বাতিল হওয়া ধারা সাইবার নিরাপত্তা আইনে রেখে দেওয়ায় এর অপপ্রয়োগের শঙ্কা ছিল। পরে নানা সেক্টরে এ আশঙ্কা বাস্তব রূপ লাভ করে।
গণ-অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্র্বর্তী সরকার দায়িত্বে এলে ‘কালাকানুন’ হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইন সংস্কার বা বাতিলের দাবি ওঠে।
সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের বিষয়ে গত ৭ নভেম্বর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্র্বর্তী সরকার। সেদিন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় সাইবার নিরাপত্তা আইন (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বিকেল ৪টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৪-এর খসড়া অনুমোদন হয়েছে। আগের আইনটি (সাইবার নিরাপত্তা আইন) এতটাই বিতর্কিত ছিল যে সেটা নিয়ে কাজ করাই অসম্ভব।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী হাসিনা এটা ব্যবহার করেছে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের ভোকাল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। দেশে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার জন্য। কেউ যেন তার মতামত ব্যক্ত করতে না পারে।’
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা নিশ্চিত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘গত সাড়ে চার মাসে এই সরকারের চরিত্র আপনারা দেখেছেন। কোনো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সামান্যতম প্রভাবিত করেছি, আমার মনে হয় না এ বিষয়ে কোনো অ্যাভিডেন্স আছে। আপনারা নিশ্চিত থাকেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সব মানুষের সাইবার স্পেসও সুরক্ষিত হবে। একই সঙ্গে এটা আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেবে। এটা কোনোভাবেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে না। এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
প্রস্তাবিত নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’-এ আগের আইনের বিতর্কিত সব ধারাগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, এই আইনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমসহ সব নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সাইবার সুরক্ষা আইনে সমুন্নত থাকবে।’
নতুন আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা সাইবার স্পেসকে সবার জন্য নিরাপদ করতে চাই। আপনারা জানেন, সাইবার স্পেসে অনেক ধরনের অপরাধ হয়। অনেকে প্রতারিত হন। মা, বোন ও শিশুরা অনেক ধরনের বুলিংয়ের শিকার হন। সাইবার স্পেসকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এ বিষয়টি বিবেচনা করে অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হয়েছে।’
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে। এর বাইরে পদোন্নতিবঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
