বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মইনুল ইসলামকে কানাডা যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার এমিরেটস এয়ারলাইনসের (ইকে-৫৮৭) ফ্লাইটে তার দুবাই হয়ে কানাডার টরন্টো যাওয়ার কথা ছিল। তবে একই ফ্লাইটে বিজিবির সাবেক এ মহাপরিচালকের স্ত্রী ও মেয়ে কানাডা গিয়েছেন।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে মইনুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী ও মেয়ের দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। উড়োজাহাজে ওঠার প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যান। কিন্তু ইমিগ্রেশন থেকে তাকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়নি। পরে বেশ কিছুক্ষণ বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বসে থাকেন তিনি।
এরপর রাতে মইনুল ইসলাম বাসায় ফিরে যান। তবে তার স্ত্রী ও সন্তান নির্ধারিত ফ্লাইটে কানাডার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. গোলাম রসুল। তিনি বলেন, ‘বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক বিদেশ যাচ্ছেন না। তিনি বাসায় ফিরে গেছেন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে গঠিত কমিশন তার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাকে আপাতত বিদেশ না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে মইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কমিশন আমার সঙ্গে কথা বলবে এটি আমাকে আগে জানানো হয়নি। পূর্বনির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী আজ (গতকাল) আমি কানাডা যাচ্ছিলাম। কানাডা যাওয়ার এই টিকিটটি করা হয় গত ১ আগস্টে। নির্ধারিত ফ্লাইটে আমার স্ত্রী-সন্তান কানাডা চলে গেছেন।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের সহোদর লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মইনুল ইসলাম। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ ও পিলখানা হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এর ৪৮ ঘণ্টার মাথায় বাহিনীটির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান মইনুল ইসলাম। তিনি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তন হয় এবং সীমান্ত বাহিনীতে যোগ করা হয় একটি গোয়েন্দা ইউনিট। পরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করা হয় তাকে এবং সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে জেনারেল স্টাফ করা হয়। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হন মইনুল ইসলাম। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বিজিবির মহাপরিচালক পদে যোগদানের আগে জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ বাংলাদেশের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের (এএফডব্লিউসি) প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
